সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন : অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন

শীতের পড়ন্ত বিকেল হঠাৎ যেন উষ্ণ হয়ে উঠল যখন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও নাট্যব্যক্তিত্ব লায়লা হাসান ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী বুবুল মহালানবীশ অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সেমিনার রুমে প্রবেশ করেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র মালপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দু’জনই ছিলেন অতিথি। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা যাদেরকে এতোদিন শুধু টেলিভিশনে দেখার সুযোগ পেয়েছেন সেই প্রথিতযশা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এখন তাদের চোখের সামনে, কারোরই তর সইছিলনা তাই অনুষ্ঠান শুরুর আগেই প্রিয় মানুষদের সাথে ছবি উঠানো কিংবা অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাচ্ছিলেন না।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কলেবর ছোট্ট হলেও তা ছিল নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়ায় জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত একটি ভবন জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর গত ৩ বছরে ভবনটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে। সংগঠনটি তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম একে একে চালুও করেছে। গত শুক্রবার বিকেল ৩টায় অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জির সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী লায়লা হাসান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠশিল্পী বুলবুল মহালানবীশ, বিক্রমপুর জাদুঘরের কিউরেটর অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, অধ্যক্ষ নিহার রঞ্জন দাস, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হাসান ও অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহবায়ক মনোয়ার হাসিনুল আলম, প্রশিক্ষক সেন্টু দত্ত ও ম. শফিক।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন ‘শিশু কিশোরদের যে বয়স তা হল নেশার বয়স, আমরা যদি তাদেরকে বইয়ের নেশা, সুস্থ সংস্কৃতির নেশা বা খেলাধুলার নেশা ধরাতে না পারি তাহলে তারা তো মাদকের নেশায় মশগুল হবেই। আমরা যদি শিশুদেরকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে না পারি, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ দিতে না পারি, খেলাধুলার সুযোগ দিতে না পারি তাহলেতো তাদেরকে মাদকের মরণ ছোবল থেকে মুক্ত রাখতে পারবোনা। আমরা যদি তাদেরকে মাদকের হাত থেকে মুক্ত করতে না পারি তাহলে এ দায় আমাদের সকলের।’

অনুষ্ঠান শেষে বুলবুল মহলানবীশ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কালজয়ী কয়েকটি গান গেয়ে শোনান। চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হস্তাক্ষর লিখন ও শুদ্ধ উচ্চারণ এ তিনটি বিষয় দিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.