পদ্মা সেতু নির্মাণে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা!

৯০ জনের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে শ্রমিক পদে চাকরি দেয়ার নামে ৯০ জনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ থেকে ও সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার এমদাদুল হক পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে চুক্তি ভিত্তিক ৫ বছর মেয়াদি শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে বলে এলাকায় লোক মারফত প্রচার করেন। বলা হয়, প্রতিটি শ্রমিকের মাসিক বেতন ভাতা হবে ২১ হাজার টাকা। শ্রমিকদের ঐ আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে নেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। ফলে এলাকার সহজ-সরল শ্রমিক এমনকি মধ্যবিত্ত ঘরের বেকার যুবকরাও চাকরি পাওয়ার আশায় তাকে ১০ হাজার করে টাকা দেন। এভাবে ৯০ জন শ্রমিক ও বেকার যুবকের কাছ থেকে এমদাদুল হক প্রায় ৯ লক্ষ টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন।

শ্রমিক ও যুবকরা ধার-দেনা করে চাকরির জন্য টাকা দিলেও দীর্ঘদিনেও নিয়োগ না পাওয়ায় ঐ নেতা উপর চাপ সৃষ্টি করেন। শ্রমিকদের চাপে হচ্ছে হবে করে প্রতিটি শ্রমিকের হাতে পৃথক ভুয়া স্বাক্ষরে তিনি ১টি করে নিয়োগপত্র ধরিয়ে দেন। নিয়োগপত্রে নির্মাণ সংস্থার নাম দেয়া হয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেস ওয়ে কর্পোরেশন ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি (জাইকা)। নিয়োগপত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিকদের উদ্দেশে লেখা রয়েছে আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনার আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা সেতু প্রকল্পে (লেবার) পদে নিম্নে উল্লেখিত তথ্যাবলী অনুযায়ী ৫ বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। বেতন/স্কেল ২১ হাজার টাকা সর্বসাকুল্যে। নিয়োগ কর্মকর্তা, পদ্মাসেতু প্রকল্প, ঢাকা, বাংলাদেশ।

প্রতারণার শিকার অবিলের বাজারের ভুক্তভোগী মমিন আলীর ছেলে মাসুদ রানা জানান, এমদাদুল হক আমাকে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে শ্রমিক পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা ও ঢাকায় গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে এজন্য ৪ হাজার ৫ শত টাকা নিয়েছে। এখন টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করছে।

বাফলা গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে শ্রমিক মফিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমার এলাকায় কোন কাজকর্ম না থাকায় ঐ আওয়ামী লীগ নেতার কথায় বিশ্বাস করে তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কাজে যোগদান করতে না পারায় টাকা ফেরত চেয়েছি। আগামী শুক্রবার তিনি টাকা ফেরত দিতে চেয়েছেন। এরকম ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম, এনামুল হক, জিল্লুর রহমান, সফিকুল ও বাহারুলসহ আরও অনেকে এমদাদকে টাকা দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমি টাকা নেইনি তবে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। টাকা নেননি ক্ষতিপূরণ কিভাবে দিবেন-এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

রণচন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান (বিমান) এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments are closed.