আলুখেতে মড়ক, ফলন ও মান নিয়ে দুশ্চিন্তা

মুন্সিগঞ্জে আলুখেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। এতে মরে যাচ্ছে আলুগাছ। ফলন ও মান নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। এ অবস্থায় মড়ক দমনে ছত্রাকনাশক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

চাষিরা জানান, ৮-১০ দিন আগে এ রোগ দেখা দেয়। পরে আস্তে আস্তে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে রোগটি পাতায় আক্রান্ত হয়। এরপর সেই পাতা মরে যায়। আবার কখনো গাছের ডগা প্রথমে আক্রান্ত হয়। পরে পুরো গাছটিই মরে যায়। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই রোগ মহামারিতে রূপ নেবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মেঘলা আকাশ, রোদ না ওঠা, তাপের তারতম্য ও আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে লেটব্রাইট (মড়ক) নামের এই রোগটি দেখা দিয়েছে। এটি ছত্রাকবাহী রোগ।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জের ছয় উপজেলায় ৩৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে সদর, সিরাজদিখান, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, ৭০ একর (২৮ হেক্টর) জমিতে মড়ক দেখা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর পরিমাণ অনেক বেশি।

গতকাল সোমবার ও গত রোববার সদর, সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আলুখেত পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রায় সব জমিতেই কমবেশি এ রোগ দেখা দিয়েছে। কালো হয়ে গেছে আক্রান্ত খেতের গাছের পাতা ও ডগা। খেত রক্ষায় যন্ত্রের সাহায্যে ছত্রাকনাশক ছিটাচ্ছেন কৃষকেরা।

সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকী গ্রামের চাষি মো. আলী বলেন, তিন লাখ টাকা ব্যয়ে তিনি এ বছর আলু চাষ করেছেন। তাঁর দেড় কানি (দুই একর) জমিতে মড়ক দেখা দিয়েছে। চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। খেত রক্ষার জন্য নিজেই ছত্রাকনাশক (ইন্ডোফিল-৪৫) ছিটাচ্ছেন।

একই গ্রামের দেলোয়ার মিঝি ১০ কানি জমিতে আলু চাষ করেছেন। খেতের সবটাতেই থোকা থোকা মড়ক লেগেছে।

তিনটি উপজেলার এমন আরও ১৫-২০ জন চাষি জানান, এ রোগে আক্রান্ত জমিতে ফলন হলেও কম হবে। মানও ভালো হয় না। তাই এই আলুতে বীজ সংরক্ষণ করলে আগামী মৌসুমেও ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, এই রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য ছত্রাকনাশক ব্যবহারে গত ২১ ও ২৮ জানুয়ারি মাইকিং করে কৃষকদের সচেতন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল আজিজ বলেন, মড়ক ছত্রাকবাহী। ঠিকমতো ছত্রাকনাশক ছিটালে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। তবে কী পরিমাণ জমিতে মড়ক লেগেছে, তার হিসাব তিনি দিতে পারেননি।

প্রথম আলো

Comments are closed.