সিরাজদিখানে প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপন করা হবে : আমু

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, সরকার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ২১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্লাস্টিক শিল্পনগরী স্থাপন করতে যাচ্ছে। ধলেশ্বরী ব্রীজের পশ্চিম পাশে বড়বর্ত্তা মৌজায় ৫০ একর জমির ওপর এ শিল্পনগরি স্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্লাস্টিক শিল্প-উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে শিল্পমন্ত্রণালয় এই শিল্পনগরি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা’র (বিসিক) উদ্যোগে এটি স্থাপিত হবে। এ প্লাস্টিক শিল্পনগরীতে ৩৪৮টি শিল্প ইউনিট স্থাপনের মধ্যদিয়ে এসব শিল্প ইউনিটে ১৭ হাজার ৪শ’ লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শিল্পমন্ত্রী আজ বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত দশম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা-২০১৫-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

আমির হোসেন আমু বলেন,এটি যাতে দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিসিক উতোমধ্যেই প্লাস্টিক শিল্প নগরী স্থাপনের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করেছে।

উল্লেখ্য, চার দিনব্যাপী এ মেলা গত মঙ্গলবার শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

এ মেলার শেসদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতি’র (বিপিজিএমইএ) চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’র চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংক’র ডেপুটি গভর্ণর মোঃ আবুল কাশেম, বিপিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এ.এস.এম কামাল উদ্দিন ও তাইওয়ানের চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল’র নির্বাহী পরিচালক।

এ মেলায় বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের ৩ শতাধিক প্লাস্টিক পণ্য, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং সামগ্রী, যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি প্রদর্শিত হয়েছে।

মেলার পাশাপাশি বিপিজিএমইএ এবং ওয়েস্ট কনসার্নের যৌথ উদ্যোগে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘রিসাইক্লিং প্লাস্টিক ওয়েস্ট’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও ক্রেতা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্যের গুণগতমান সম্পর্কে দেশি-বিদেশি ক্রেতারা সম্যক ধারণা লাভ করেছেন।

এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক শিল্প গড়ে তোলার অভিযাত্রাকে বেগবান করবে বলে উদ্যোক্তারা আশা করছেন।

প্লাস্টিক শিল্পকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিকাশমান শিল্পখাত হিসেবে অভিহিত করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কাঠের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার দেশে-বিদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও মানসম্মত প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

তিনি জানান , দেশে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ ২০ ভাগ হারে বেড়ে চলেছে। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদার যোগান দিতে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের প্লাস্টিক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠছে। ইতোমধ্যে দেশে ছোট-বড় প্রায় ৫ হাজার প্লাস্টিক ইন্ডাষ্ট্রি স্থাপিত হয়েছে এবং এ খাতে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং এ খাত থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করা হচ্ছে বলে বিপিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা জানান।

তারা উল্লেখ করেন,দেশের চাহিদা মিটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশসহ এশিয়ার চীন, ভারত, নেপালসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিকের তৈরি পণ্যের প্রচ্ছন্ন রপ্তানির পরিমাণ বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এ খাতে সরাসরি রপ্তানি হচ্ছে ১ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতি সূত্রে বলা হয়, সরাসরি প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১২তম অবস্থানে রয়েছে। প্রচ্ছন্ন রপ্তানিসহ ধরলে এই অবস্থান ৫ম।

পণ্যের ফ্যাশন ও ডিজাইন বৈচিত্র এবং গুণগতমানের জন্য বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি প্রতিবছর বাড়ছে। পণ্য বহুমুখীকরণসহ প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা পেলে প্লাস্টিক শিল্পখাতে রপ্তানি আয় ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে উদ্যোক্তারা মনে করছেন।

বাসস

Comments are closed.