বালুবাহী বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকরা ভাল নেই

সুমিত সরকার সুমন: টানা হরতাল-অবরোধের মুখে বালু ব্যবসায় ধ্বস নামায় রাজধানীর উপকন্ঠ মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর বালুবাহি বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকদের এখন সময় ভাল যাচ্ছে না। দুর্দিন যাচ্ছে বালু শ্রমিক-মালিকদের। অনেকটা বেকার সময় কাটাচ্ছেন প্রায় ২ হাজার বালু শ্রমিক।

বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন- মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলার ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর বালু মহাল থেকে আগে বালু মজুদ করে একদিনে ১ টি বাল্কহেড কম করে হলেও এক ট্রিপ বালু বিক্রি করত ইট-বালুর পাইকারী আড়তে। এখন সেই সব পাইকারী আড়তে ১ টি বাল্কহেড থেকে ৩ দিন পর এক ট্রিপ বালু নিচ্ছে। এরফলে শতাধিক বাল্কহেডে কর্মরত ২ হাজারের মত বালু শ্রমিকের এখন হাতে তেমন কোন কাজ নেই।

তবে বেকার বালু শ্রমিকদের প্রতিদিনের খোড়াগীর টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে একেক জন বাল্কহেড মালিক আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বাল্কহেড মালিকরা জানিয়েছেন-পরিবহন সংকটে ঢাকা, সাভার ও নারায়নগঞ্জের ইট-বালুর পাইকারী আড়তে ক্রেতা মিলছে না। ক্রেতার অভাবে ঢাকার পোস্তগোলা, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা ও পাগলা, সাভারের বসিলা ও গাবতলীতে ইট-বালুর বড় পাইকারী আড়ত গুলোতে অবিক্রিত অবস্থায় লাখ লাখ ঘন ফুট বালু স্তপাকারে পড়ে আছে।

মেসার্স ডেফোডিল-৩ নামে বাল্কহেডের মালিক শাহাদাত রানা জানান, শ্রমিকদের প্রতিদিনকার বেতন-ভাতা ও খোড়াগীর টাকা প্রতিদিনই পরিশোধ করতে হয়। শ্রমিকদের প্রতিদিনের খোড়াগী বাবদ একেকজন বাল্কহেড মালিককে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মেসার্স নুরে-বোরাক ও মেসার্স জননী নামে বাল্কহেড মালিক শাহরিয়ার হাসান শুভ জানান, একদিনে ১ ট্রিপ বাল্কহেডের বালু বিক্রি থেকে সব খরচ বাদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভ পাওয়া যায়। হরতাল-অবরোধের মুখে এখন ৩ দিনের ব্যবধানে ১ ট্রিপ বালু বিক্রি করতে পারছেন তারা।

এরফলে মাঝ খানের অলস ও বেকার ২ দিনের আনুষঙ্গিক খরচসুদ্ধ শ্রমিকদের প্রতিদিনের পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে বাল্কহেড মালিকরা সর্বশান্ত হয়ে পড়ছেন।

এমভি বর্তমান নামে বাল্কহেডের মালিক অ্যাডভোকেট মো: হালিম জানান, মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়ার শতাধিক বাল্কহেড বালু মহাল গুলো থেকে বালু মজুদ করে দেশের বিভিন্ন পাইকারী ইট-বালুর আড়তে বিক্রি করে থাকেন। প্রতিদিন সেই বালু দেশের বিভিন্ন পাইকারী ইট-বালুর আড়তে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন বাল্কহেড মালিক-শ্রমিকরা। এ থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ দেখে থাকেন তারা।

বিডিলাইভ

Comments are closed.