কোকোর মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারে না: খোকা

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বলেছেন, “স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে ঝরে গেল কোকোর প্রাণ। এ মৃত্যুর দায় সরকার কখনো এড়াতে পারবে না।”

রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে কোকোর গায়েবানা জানাজায় অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন ঢাকার সাবেক মেয়র খোকা।

বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান ওসমান ফারুকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় এই দুই নেতার আহ্বানে কোন্দলে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীরা চার ভাগে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভঅরসিটি প্লাজায় এই গায়েবানা জানাজায় অংশ নিতে আসেন।

এতে ইমামতি করেন নিউ ইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। মোনাজাত পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট।

মোনাজাতে কোকোর আত্মার মাগফেরাত এবং খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।

মুদ্রা পাচারের মামলায় ছয় বছর কারাদণ্ডের সাজা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে থাকা আরাফাত রহমান কোকো শনিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তার বয়স হয়েছিলো ৪৫ বছর।

কোকোর মৃত্যুতে রোববার লন্ডনেও গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি, যাতে অংশ নেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।

কোকোর মৃত্যুর খবর আসার পর তার মা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে শনিবার রাতে তার গুলশানের কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ফটক না খোলায় তাকে সেখান থেকেই ফিরে যেতে হয়, যা নিয়ে গত দুদিন ধরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলেছে।

গায়েবানা জানাজার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে সাদেক হোসেন খোকা অভিযোগ করেন, ‘রাজনৈতিক নির্যাতনের’ কারণেই কোকোর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, “রাজনীতির ধারেকাছেও ছিলেন না কোকো। তবুও সরকারের বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মুখে ছিলেন। এমনি অবস্থায় তার মায়ের ওপর সরকারের অকথ্য আচরণে কোকো এতটাই ভেঙে পড়েন যে, এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলেই ঢলে পড়লেন।”

ওসমান ফারুক বলেন, “অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ নেই। বর্তমান সংকট নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা করতে হবে।”

বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যে আন্দোলন করছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বিএনপি কখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি।”

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের মধ্যে আব্দুল লতিফ সম্রাট, গিয়াস আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, শরাফত হোসেন বাবু, জিল্লুর রহমান, আকতার হোসেন বাদল, গোলাম ফারুক শাহীন, কাজী আজম, এম এ বাতিন, আবু সাঈদ আহমেদ, পারভেজ সাজ্জাদ, আতাউর রহমান আতা, মাজহারুল হক জনি জানাজায় অংশ নেন।

এদিকে একই দিনে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্টে কোকোর স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এক শোকসভা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা।

বিডিনিউজ

Comments are closed.