মুন্সীগঞ্জ পৌরবাসীর উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না!

দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নের স্বপ্ন। জনসেবা শতভাগ নিশ্চিতকরন ও পৌরবাসীর সব ধরনের দুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালকে টার্গেট করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যেগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না বলে পৌরবাসীর অভিযোগ উঠেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। লক্ষভ্রষ্ট হচ্ছে পৌর কর্তৃপক্ষের উন্নয়নের ভিশন এবং মিশন।

জানা গেছে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নব্বই এর দশকে প্রথম শ্রেনীতে উন্নীত হলেও জনসেবার আশানুরুপ মানোন্নয়ন হয়নি। এ পৌরসভার অবকাঠামোর উন্নয়নের নামে প্রতিবছর বিপুল অংকের টাকা অর্থ বরাদ্দ হলেও সঠিকভাবে কাজ হয়নি। বরাদ্দের টাকা পৌর কর্তৃপক্ষের ভাগ্যের পরিবর্তনেই ব্যয় হয়েছে। ফলে পৌর সড়ক ব্যবস্থাসহ অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি দীর্ঘদিনেও। সরু ও জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে সড়ক ব্যবস্থা। এছাড়া গ্যাস লাইনের সংযোগ দিতে গিয়ে অহরহ কাটা হচ্ছে সড়ক। এগুলো সঠিকভাবে মেরামত না করায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও বর্ষাকালে পানি জমে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এসব জরাজীর্ন সড়কে প্রতিদিন চলাচল করে অতিরিক্ত পন্যবাহী ট্রাক। এতে করে এ শহরের সড়ক এখন ঝুকিপূর্ন। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। মুন্সীগঞ্জ ১৯৮৪ সালে জেলা ঘোষনা ও বাস্তবায়নের পর এখনো মান্দতা আমলের অবকাঠামো বিরাজমান। শহরের অভ্যন্তরে রয়েছে অসংখ্য জঙ্গল এবং পুরানো ঝুকিপূর্ন ভবন। জঙ্গলে মশার বংশ বিস্তার ঘটছে। মশক নিধরে পৌরসভার অর্থ বরাদ্দ আসলেও তা ব্যয় হচ্ছে না। এসব ভবনের অধিকাংশই এখন ফাটল ধরা। যে কোন মৃদু ভুমিকম্পে ধ্বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পুরাতন ও জরাজীর্ন ভবনে চলছে অফিস এবং স্কুল। ঝুঁকি নিয়ে শীক্ষার্থীরা ক্লাস করছে। মেরামত না করলে জগন্নাথ হল ধ্বসে পড়ার মত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে যে কোন সময়। পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা গনপূর্ত বিভাগও এ বিষয়ে নিচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। মুন্সীগঞ্জ শহরে অনেকগুলো পুকুর পানিশুন্য হয়ে পড়েছে। পুকুর পাড়ে ও পুকুরে বাসা বেধেছে বিষাক্ত সাপ সহ নানা বিষাক্ত প্রানী।

যার ফলে রাতের আধারে কিংবা দিনে শহরে চলাচল করতে গিয়ে লোকজনকে সর্বদাই আতঙ্কগ্রস্ত থাকতে হচ্ছে। দখল হয়ে যাচ্ছে অনেক পুকুর। এসব পুকুর রক্ষনাবেক্ষনেরও নেয়া হচ্ছে না কোর ধরনের উদ্যোগ। এ শহরের বেশ কয়েকটি সড়কে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব মারাতœকভাবে বেড়েছে। এসব কুকুর দল বেধে শুয়ে থাকে ও আনাগোনা করে। ফলে স্কুলগামী শীক্ষার্থীরা ও পথচারীরা ভয়ে স্কুলে যাতায়ত করছে। এসব বেওয়ারিশ কুকুর নিধনেও পৌর কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোন পদক্ষেপ। মুন্সীগঞ্জ শহরে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্য ইদ্রাকপুর কেল্লার বেহাল দশা বিরাজ করছে।

অথচ এ কেল্লাটি সংস্কার করলে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারতো। দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমন বাড়লে রাজস্ব আয় বাড়ত বলেও এলাকাবাসীর দাবি। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ায় এ কেল্লাটি এখন ধ্বংসের মূখে। কেল্লার মূখে ও ভেতরে লোকজন মলমূত্র ত্যাগ করায় ভিতরেই যাওয়া যায় না। এ কেল্লার আশে পাশে পুকুরগুলোরও বেহাল দশা। রক্ষনা বেক্ষনের ও কোন উদ্যোগ নেই। নদী বেষ্টিত মুন্সীগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিনেও গড়ে উঠেনি কোন শিল্প কারখানা। যার ফলে এ এলাকায় বেকার লোকজনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

অর্থনৈতিক দৈন্যতা গোছাতে বেকার মানুষ জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে। যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এলাকাবাসী পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এ জেলায় গড়ে উঠেনি কোন বাস টার্মিনাল। এ ব্যাপারে পৌরকর্তৃপক্ষেও তেমন কোন উদ্যোগও নেই। যার ফলে শহরের বিভিন্ন সড়ক এখন বাস, ট্রাক, টেম্পো, সিএনজি ও রিক্সা স্ট্যান্ডে পরিনত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ শহরে পানি নিস্কাশনে একমাত্র খালটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের অংশেই দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। ডাস্টবিনের অভাবে বাসাবাড়ী ও শহরের ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ খালে। ভরাট হয়ে ও আগাছা জন্মে পানি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে খালটি। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেউ।

এ ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষও থাকছে সর্বদা নির্বিকার। মুন্সীগঞ্জ শহরে দীর্ঘদিনেও গড়ে উঠছে না গনশৌচাগার। এতে লোকজন যত্রতত্র মলমুত্র ত্যাগ করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং বাড়ছে রোগ ব্যাধি পরিবেশ হয়ে পড়ছে অস্বাস্থ্যকর এবং অপরিছন্ন। এলাকাবাসীর অভিযোগ চড়া হারে পৌরকর নিলেও সেবার মান বাড়ানো হচ্ছে না। এসব কারনেই পৌর কর্তৃপক্ষ উন্নয়নের যে ভিশন এবং মিশন নিয়েছে তা ভেস্তে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পৌরবাসী সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ

Comments are closed.