বিক্রমপুরের আড়িয়াল বিলের চ্যাপা শুঁটকির সুনাম দেশজুড়ে

মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের আড়িয়াল বিলের শুঁটকির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে পুঁটি মাছের চ্যাপা শুঁটকির সুনাম দেশজুড়ে। কার্তিক মাসে এর ভরা মৌসুম। বর্ষার পানি চলে যাওয়ার মুতুর্তে বিলে হাঁটু পানি থাকে। তখনই পুঁটি মাছের মেলা বসে। খাড়িভর্তি পুঁটি ধরা পড়ে জালে। পুঁটি ছোট মাছ হলেও জেলেদের মুখে ফোটে হাসি। এই পুঁটি দিয়েই তৈরি করা হয় চ্যাপা শুঁটকি। পুঁটি মাছের শুঁটকি করা সহজ। তবে পুঁটি মাছ দিয়েই বিশেষভাবে তৈরি করতে হয় চ্যাপা শুঁটকি। এই বিলের বড় আকৃতির পুঁটি মাছ এমনিতেই সুস্বাদু। আর সেই মাছে শুঁটকিরও স্বাদ আলাদা।

অন্তত ১শ’ পরিবার এই শুঁটকির সঙ্গে জড়িত। বড় পুঁটি মাছ বেছে রেখে প্রথমে আঁইশটা ছাড়িয়ে তারপর বড় আকারের মাটির মটকি ভেতরে রেখে মুখ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়। কোন রকম ছিদ্র থাকতে পারে না। এভাবে অন্তত ছয় মাস রাখতে হয়। তাই সাধারণত কার্তিক মাসে এভাবে মটকিতে কাঁচা পুঁটি রেখে বের করে চৈত্র মাসে। তখনই চ্যাপা শুঁটকিতে রূপান্তর হয়। এই শুঁটকি রোদে দেয়া প্রয়োজন হয় না। অনেকের কাছে এই শুঁটকি বেশ প্রিয়। আর পুঁটি মাছের সাধারণ শুঁটকি রোদে শুকিয়ে এক মাসের মধ্যেই বাজারজাত করা যায়। এখান থেকে বড় আকারের পুঁটি মটকিতে ভরে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে নেয়া হয়। বড় আকারের পুঁটি মাছ ছাড়া এই শুঁটকি হয় না।

হাসাড়া গ্রামের হারাধন রাজবংশী ও পরেশ রাজবংশী জানান, পুঁটি মাছের জন্য আগেই খোলা তৈরি করে। বিলের পাশে মুলিবাঁশ ও মুলির বেড়া দিয়ে বড় ঘরের মতো তৈরি করে। একই বলা হয় খোলা। বিল থেকে পুঁটি কিনে এই খোলায় তোলা হয়। খোলার ভেতরে বসেই চ্যাপা শুঁটকির জন্য বড় পুঁটি ভিন্ন করা হয়। এক একটি মটকিতে এক থেকে দেড় মণ পুঁটি মাছ থাকে।

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল
মুন্সীগঞ্জ থেকে

জনকন্ঠ