প্রধান আসামির রিমান্ড খারিজ : লৌহজংয়ের দুই হত্যা মামলা নিয়ে শঙ্কা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার চাঞ্চল্যকর দুই হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবুর দ্বিতীয় দফা রিমান্ড আবেদন আদালত নামঞ্জুর করায় হতাশা জানিয়েছে বাদীপক্ষসহ এলাকাবাসী। এর আগে তিন দিনের রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এদিকে সরকারের উচ্চপদে আসীন একজন আইন কর্মকর্তার স্বজন এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকায় আসামি বাবুও বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ওই আইন কর্মকর্তার স্বজন এরই মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লৌহজংয়ের কাজির পাগলা গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খান ও একই গ্রামের যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবু দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর গত ১ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত ৬ জানুয়ারি পুলিশের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় গত শনিবার রাতে বাবুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ডিবি পুলিশ লৌহজং থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাবুর বাড়ি থেকে অবৈধ একটি দেশীয় রিভলবার উদ্ধার করে। পরে এ ব্যাপারে বাবুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে বাবুকে গত রবিবার মুন্সীগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য পরদিন সোমবার দিন ধার্য রেখে বাবুকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু জজকোর্ট থেকে নথি না আসায় ঝুলে যায় রিমান্ড শুনানি। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই দুটি হত্যা মামলায় বাবুকে আরো ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করে। পুলিশের ধারণা, বাবুর কাছে আরো অস্ত্র আছে। ওই সব অস্ত্র উদ্ধারসহ ওই হত্যা মামলায় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু পুলিশি রিমান্ড আবেদন যথাযথ না হওয়ায় তা নামঞ্জুর করে আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মোবারক হত্যা মামলার বাদী তাঁর মেয়ে ওয়াহিদা খান দিয়া বলেন, ‘বাবু আমার সামনেই বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে। হত্যার পর মামলা তুলে নিতে বারবার হুমকি দিয়েছে। ও এবার জামিনে বেরিয়ে এসে আমাকেও মেরে ফেলবে।’

মুন্সীগঞ্জ ডিবির এসআই মো. মাসুম খান জানান, রিমান্ডে ডিবি ও পুলিশের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে দুর্ধর্ষ আসামি বাবু। তার কাছে আরো অস্ত্র রয়েছে বলে পুলিশের বিশ্বাস।

কালের কন্ঠ