শ্রীনগরে রেজাউল হত্যায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তি!

কিলিং মিশনে আংশ নেয় ৩ জন
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে অটোরিক্সা চালক রেজাউলকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে হত্যা করেছে খুনিরা। হত্যাকান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীর সাথে চুক্তির পর কিলিং মিশনে অংশ নেয় তিনজন। রাত দশটার দিকে কিলিং মিশন শেষ করে তিনজন তিন দিকে চলে যায়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর এক খুনি ১৬৪ ধারায় মুন্সীগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবান বন্দীতে এসব তথ্য জানায়।

শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মুজিবুর রহমান জানান, মোবাইল ফোনের কললিষ্টের সূত্র ধরে খুনি রবি (২০) কে গত ২৯ ডিসেম্বর মদনখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর দুই খুনি এখনো পলাতক রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই মিজান জানান, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা কারী মদনখালী এলাকার ভাড়াটিয়া মানিক (৩৫)। একই এলাকার রেজাউলের সাথে তার টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে ঝগড়া হয়। এর সূত্রধরে মানিক তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রেজাউলকে হত্যার জন্য মানকি ৫০ হাজার টাকায় রবি ও তার দুই সঙ্গীর সাথে চুক্তি করে।

ঘটনার দিন বিয়ের বাজার করার কথা বলে খুনিরা মদনখালী থেকে রেজাউলের রিক্সাটি ভাড়া নিয়ে প্রথমে বাড়ৈখালী বাজারে ও পরে রাত আটটার দিকে তারা রেজাউলকে নিয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর বাজারে যায়। সেখানে তারা রেজাউলকে নিয়ে একটি হোটেলে বসে সিংগাড়া খায়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঐ বাজার থেকে বাশের লাঠি ও জিআই তার কিনে রিক্সা নিয়ে মদনখালীর দিকে রওনা হয় তারা। রাত দশটার দিকে খাহ্রা এলাকার সালেপুরের কাছাকাছি এসে পৌছলে এক খুনি পেছন দিক থেকে রেজাউলের মাথায় বাশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে।

এসময় রেজাউল মাটিতে পড়ে গেলে খুনিরা সাবাই মিলে রেজাউলের গলায় জিআই তার পেচিয়ে তাকে শ্বাষরোধ করে হত্যা করে। কিলিং মিশন শেষ করে খুনিরা তিনজন তিনদিকে চলে যায়। পরদিন সকালে রাস্তার পাশ থেকে রেজাউলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় ওই দিনই রেজাউলের বাবা আফজাল হোসেন শ্রীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পচিশ দিনের মাথায় পুলিশ খুনি রবিকে মদনখালী থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে সে মুন্সীগঞ্জের জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট উমা রাণী দাসের আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দী দেয়। রবির বাড়ি ফরিদপুররের সতের রশি এলাকায়। তার বাবার নাম সামু মোল্লা। সে মদন খালী এলাকায় তার বোনের সাথে বসবাস করতো।