চাষী নজরুলের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে দেয়নি তার পরিবার

গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রয়াণের পর তাদের মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন বিগত কয়েক বছর ধরে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চাষী নজরুলের মরদেহ নেওয়া হয়নি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

চাষী নজরুলের মতো একজন গুণী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মরদেহ কেন নেওয়া হল না শহীদ মিনারে? এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কেউ কেউ লিখেছেন, চাষী নজরুল ইসলাম বিএনপির মতাদর্শে বিশ্বাসী বলেই তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে দ্য রিপোর্ট কথা বলেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব, জাসাসের সভাপতি এবং চাষী নজরুলের পরিবারের সঙ্গে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং পরিচালক সমিতির সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কয়েকজন নেতার অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সেখানে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বলা যায়, অনেক অসম্মানের মধ্য দিয়ে তাকে শেষ বিদায় দিতে হল।’

তিনি আরও বলেন, ‘চলচ্চিত্রকর্মীদের মধ্যে খুব কম মানুষের মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়ার যোগ্য হন। সেই গুটিকয়েক শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বদের মধ্যে চাষী নজরুল ইসলাম একজন। কিন্তু যে সংস্থার সদস্যও তিনি নন, কোন অধিকারে সে সংস্থার সদস্যরা চাষী নজরুলের পরিবারের লোকদের চাষী নজরুল ইসলামের মরদেহ শহীদ মিনারে আনতে বাধা দিয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।’

এ অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন জাসাসের সভাপতি এম এ মালেক। তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনারে নেওয়া না নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের মাথা ব্যথা থাকবে কেন। তিনি সর্বসাধারণের প্রিয় মানুষ। এ বিষয়ে আমি তো দূরের কথা আমার জানা মতে আমাদের কোনো সদস্যও আপত্তি জানায়নি।’

চাষী নজরুল ইসলামের ছোট মেয়ে আন্নি ইসলাম দ্য রিপোর্টকে জানান, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। প্রথমে নেওয়ার কথা থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে আমার বাবার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়ার সুযোগ হয়নি। আমরা মনে করেছি, আমার বাবা চলচ্চিত্রের মানুষ। সে কারণে বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (বিএফডিসি) নেওয়াটাই সবচেয়ে ভাল। সেখানে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। আমরা এ জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এদিকে শহীদ মিনারে চাষী নজরুলের মরদেহ শহীদ মিনারে নিতে না পারায় আক্ষেপ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক কথা মতে আমরা চাষী নজরুল ইসলামকে সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করি, একজন মানুষের রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে। কিন্তু তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রথম মুক্তিযুদ্ধকে চলচ্চিত্রের ফ্রেমে বন্দী করেছেন। সুতরাং এই দেশ প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ঐতিহ্যবহনকারীদের সঙ্গে তার রয়েছে সুসম্পর্ক ও সুস্পষ্ট যোগাযোগ। সে চেতনা থেকেই সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তা হল না।’

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.