মুন্সীগঞ্জ পৌর শিশু পার্কটি আলোর মুখ দেখবে কবে?

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জ জেলাবাসীর ও শিশুদের স্বপ্নের শিশু পার্কটি ২০ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে শিশুপার্কটি নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর আর আলোর মুখ দেখেনি। ধ্বংস্তুপে পরিণত শিশু পার্কটি এখন মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আড্ডাস্থল। শিশু পার্কে এখন অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে হোটেল, চায়ের দোকান ইত্যাদি। এই শিশু পার্কটি কোনদিন আলো দেখবে কিনা তা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে ১ একর ৫৮ শতাংশ জায়গা ১৯৯২ সালে মেসার্স ভায়া মিডিয়া টেন্ডার নিয়ে পৌরপার্কটির কাজ শুরু করে। ৪ বছর পর কোন রকম কাজ শেষ হলেও দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলা করলে পার্কটি আর আলোর মুখ দেখেনি। অযতœ-অবহেলায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পৗর শিশুপার্কটির মৃত্যু ঘটে ওই বছরই।

২০০৬ সালের ৩০ শে এপ্রিল তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনিস উদ্দিন মঞ্জুরের মধ্যস্থতায় শিশু পার্কটি পুনঃনির্মাণের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট মুজিবুর রহমানের এবং ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়। সেদিনই শিশু পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে। প্রাথমিক চুক্তি অনুসারে শিশু পার্কটির নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য ওয়ান্ডারল্যান্ড ২০ বছরের জন্য মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা থেকে লিজ নেয়। নির্মাণ ও খেলার সামগ্রীসহ সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি টাকা। শর্ত ছিল, ওয়ান্ডারল্যান্ড প্রতিবছর মুন্সীগঞ্জ পৌরসভাকে ১ লাখ টাকা লিজ মানি দেবে। আয়-ব্যয়, লাভ-লোকসান বহন করবে ওয়ান্ডারল্যান্ড। তবে পার্ক নির্মাণের প্লান ও কি কি খেলনা সামগ্রী থাকবে সে সম্পর্কে পৌরসভা থেকে অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে। এ সকল শর্ত নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও রহস্যজনক কারণে শিশুপার্ক নির্মাণ কাজে আর হাত দেয়া হয়নি।

শিশু পার্কটির দৈনদশা সম্পর্কে শিক্ষক খালেদা আক্তার নীলা বলেন, কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে শিশু পার্কটির উন্নয়ন হচ্ছে না। শিশুদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য শিশু পার্কটি নির্মাণ করার দাবি জানান তিনি।

মুন্সীগঞ্জ শহরের কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র শেখ নিসার আহমেদ নীড় মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমকে জানান, আমার বাব-মা চাকুরি করার কারনে দুইজনই সারাদিন ব্যস্ত থাকেন। সপ্তাহে একটা ছুটির দিন শুক্রবারে আমরা কোথাও গিয়ে আনন্দ করতে পারি না।

রাজধানী ঢাকায় বিনোদনের অনেক জায়গা থাকলেও মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা গিয়ে আনন্দ করা আমাদের সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই মুন্সীগঞ্জে আমাদের জন্য একটা বিনোদনের জায়গা খুবই দরকার।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র একেএম ইরাদত মানু মুন্সীগঞ্জ বার্তা ডট কমকে জানান, এই পার্কটির নির্মাণ কাজের শেষ পর্যায়ে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মামলার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ওয়ান্ডারল্যন্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়। সরকারিভাবে কোন বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় নিজেস্ব টাকা থেকে এর উন্নয়নের কাজ করা হবে।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা