শিল্পকলায় অগ্রসর বিক্রমপুরের গুণীজন ও কৃতী শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত

কুয়াশার চাদর সরিয়ে সূর্যের আলো ফোটার আগেই গুণীজন ও কৃতী শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয় মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন। ২৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে তা। উপলক্ষ্য, প্রতিবছরের মতো এবারও কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সম্মাননা। আয়োজক অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন, মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্র। এক ভিন্ন আমেজের আয়োজনে অংশ নেওয়া অধিকাংশই ছিল শিশু-শিক্ষার্থী। অনেকেই দাদা-দাদি, নানা-নানুর হাত ধরে বাহারি পোশাক পরে অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হয়। এ যেন নানা বয়সীদের এক মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে আজকে যারা সম্মাননা পাচ্ছে তারা প্রত্যেকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিক্রমপুর তথা এ অঞ্চলের মুখ উজ্জ্বল করবে বলেই আমি আশাবাদী। তাছাড়া বিক্রমপুর অঞ্চলে খননের মাধ্যমে যে বিহার আবিষ্কৃত হয়েছে, তা শুধু বাংলাদেশ নয়; সারা পৃথিবীতে নতুন করে বিক্রমপুরকে পরিচিত করে তুলেছে। ভবিষ্যতে অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান সংলগ্ন রঘুরামপুরে আবিষ্কৃত বিহারের পাশে একটি অত্যাধুনিক সাইট মিউজিয়াম নির্মাণ করা হবে। মুন্সীগঞ্জের মালপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান পীঠ, স্বদেশ গবেষণা কেন্দ্রটিকে জাতীয় মানের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ অতিথি কবি রুবি রহমান বলেছেন, ‘আমি এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠানে আসতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত এবং অভিভূত। ভবিষ্যতে আবারও আপনাদের এরকম অনুষ্ঠানে আসতে চাই।‌‍’ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেছেন, ‘তরুণ শিক্ষার্থীরা আজ নেশার করাল গ্রাসে আক্রান্ত, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা মুন্সীগঞ্জ জেলাকে মাদকমুক্ত জেলায় পরিণত করতে চাই।’

কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট কীটতত্ত্ব বিজ্ঞানী শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী, জ্ঞানপীঠ, স্বদেশ গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী এবং অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সাথী আক্তার এবং সাংগঠনিক বক্তব্য রাখেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর হাসান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান ও রওনক জাহান তানি।

অনুষ্ঠানে উমা শংকর সরকার এবং দয়া ঘোষকে শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় মেধা তালিকায় প্রথমস্থান অধিকারী ২ জন ছাত্র এবং ২ জন ছাত্রীর মা‌কে শ্রেষ্ঠ মা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত ৫৯ জন, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি প্রাপ্ত ২৯ জন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ গোল্ডেন-৫ পাওয়া ৫৫ জন এবং বর্ষবরণ ১৪২১ বঙ্গাব্দ উদযাপনী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান আধিকারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.