নতুন আরও একটি বছর জীবনে আসা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার : বাঁধন

এ বছরে শুরু কেমন হল এ সময়ের জনপ্রিয় তারকা বাঁধনের? কী ভিন্ন আমেজের মাধ্যমে তিনি সাজাচ্ছেন বছরটির সিডিউল? এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘নতুন আরও একটি বছর জীবনে আসা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। এ বছরের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছে। কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিচিত হতে যাচ্ছি নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দর্শকদের ভিন্ন বাঁধনকে উপহার দিতে চাই।’ বছরের প্রথমেই তিনি শুটিং ও মেয়ে সায়রাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিটি হল আমার মেয়ে। প্রথমবারের মতো এ বছরেই সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া আসার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যাচ্ছি। বলতে পারেন এটা আমার ব্যস্ততার মাত্রায় নতুন কিছু যুক্ত হল।’ সাধারণত মাসে বেশি দিন শুটিং করেন না তিনি। কাজের সংখ্যা কম থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা অনেক। সম্প্রতি আরিফ খানের পরিচালনায় ‘দলছুট প্রজাপ্রতি’ ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে এনটিভিতে। এছাড়া প্রচার হচ্ছে ‘জীবনের গল্প’, ‘ঘোমটা’ ‘দাহ’, ‘পালঙ্ক’ ধারাবাহিক নাটক।

এ বছরেই আসবে বৈশাখী টিভিতে অঞ্জন আইচের রচনা ও পরিচালনায় নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘সাপলুডু’। অভিনয় প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, ‘নিয়মিত অভিনয় করার চেষ্টা করছি। মাসে ৬ থেকে ৮ দিন অভিনয় করছি। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমার মেয়ের জন্য আমি বেশি রাত শুটিং করি না। এবং যদি ঢাকার বাইরে যেতে হয়, তাহলে ওকে সঙ্গে নিয়ে যায়।’ এছাড়া তিনি বহু নাটক ও টেলিফিল্মে করছেন নিয়মিত। অভিনয়ের চরিত্রের ক্ষেত্রে তিনি সব সময় চিরচেনা কিছু চরিত্রে অভিনয় করেন। এ নতুন বছরে কি দর্শক তার মাঝে ভিন্নতা খুঁজে পাবেন নাকি আগের সেই চেনা বাঁধন একই রূপে ফিরে আসবেন? কিন্তু একজন অভিনয় শিল্পীর সর্বদা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের স্বাদ নেয়া উচিত।

বাঁধন জানান, ‘অভিনয়ের এত বছর পরে আমি বুঝতে পেরেছি, আমার অভিনয়ের চরিত্র নির্বাচনে একটু ভিন্ন দৃষ্টি দিতে হবে। একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না। নতুন বছরে দর্শকরা আমাকে ভিন্নরূপে অবশ্যই দেখতে পাবেন। অতীতের বাঁধনকে এখানে খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হবে।’ দেরিতে হলেও তার মনে ভিন্ন চরিত্রের অভিনয় করার স্বাদ নেয়ার ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছে এটাই দর্শকদের জন্য বড় সুখের সংবাদ। ভিন্ন চরিত্রের জন্য যে কষ্ট করতে হয়, তা করতে রাজি আছেন তিনি। স্টেজ পারফর্ম তেমন না করলেও বছরজুড়ে তার বেশ কিছু বিজ্ঞাপন থাকে।

অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবেও তার বেশ খ্যাতি আছে। প্রচার চলছে খাদ্যজাত ও মশলা জাতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং এ বছরেই আসছে প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকানের বিজ্ঞাপন। শুটিং শেষ করেছেন। শুধু প্রচারের অপেক্ষায় আছেন। তবে বিজ্ঞাপনে তিনি যে কোনো পণ্যের মডেল হন না। কাজ কম করলেও দেখার মতো একটি কাজ করতে চান তিনি। মিডিয়া ক্যারিয়ারে নাটক, টেলিফিল্মে যথেষ্ট কাজ করলেও সিনেমা করেছেন মাত্র একটি। মুশফিকুর রহমান গুলজারের পরিচালনায় ছবিটির নাম ‘নিঝুম অরণ্যে’। এ বছর কি তিনি নতুন কোনো ছবি নিয়ে ব্যস্ত হবেন নাকি চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ হয়ে গেছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আসলে অভিনয়ে আসার পর থেকে সিনেমা নিয়েও অনেক ভেবেছি। প্রতিটি অভিনয় শিল্পীরই চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে সিনেমা। আমার ক্ষেত্রেও তাই। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু তেমন করে ভেবে দেখিনি। এ বছর আমার সঙ্গে মানানসই চরিত্রের প্রস্তাব পেলে চলচ্চিত্রে নিয়মিত হব।’ অর্থাৎ ২০১৫ সাল হতে পারে বাঁধন ভক্তদের একটি খুশির বছর।

এ বছরে তিনি নিজের মন থেকে কী কী করতে চান বা কী পেতে চান সৃষ্টিকর্তা ও ভক্তদের কাছ থেকে। বাঁধন বলেন, ‘লাক্স আমার জীবনের মোড়ে পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এ বছরটিও যেন আমার নতুন কোনো মোড় ভালোর পথ খুলে দেয়। আরও ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে পারি। দর্শকরা ভালো থাকুক, লাক্সের নতুন তারকাদের শুভেচ্ছা জানাই। তারাও স্থায়ীভাবে থাকতে পারে এই প্রত্যাশা করি।’ দর্শকদের বেশি বেশি ভালোবাসা পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করতে চান লাক্স তারকা বাঁধন। আর সেই পথেই হাঁটছেন তিনি।

যুগান্তর