মালপাড়া পুকুর ভরাট চেষ্টায় পরিবেশ অদিপ্তরের মামলা

ভরাটকারীদের ঢাকায় তলব
মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মালপাড়া পুকুর ভরাট চেষ্টাকারীদের ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরে তলব করা হয়েছে। আজ বুধবার তাদের সশরীরে হাজির হয়ে পুকুর ভরাটের চেষ্টা কৈফত দেয়ার জন্য মঙ্গলবার নোটিশ জারি করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৭ ধারা মোতাবেক তাদেরকে তলব করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ মনিটরিং ও ইনফোর্সমেন্ট পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর।

এছাড়া শত বছরের প্রাচীন এই পুকুর ভরাটের চেষ্টায় পরিবেশ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ থানায় একটি ফৌজদারী মামলা করেছে। মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর আলম বাদী হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে রবিবার রাতে এই মালাটি করেন। এই মামলায় আসামী করা হয়েছে- ভরাটের চেষ্টাকারী বাবুল মোল্লা ও রিপন মোল্লাকে। মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর আলম জানান, অবৈধভাবে পুকুরে ভরাাটের চেষ্টার কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর এই মামলাটি করেছে।

ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করে-জলজ প্রাণি ও উদ্ভিদের অপূরনীয় ক্ষতি সাধন করেছে। যা পরিবেশের ও জীব বৈচিত্র্যের জন্য ভয়ঙ্কর। এর আগে তাদের নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হলেও তা অমান্য করে বালু ফেলে এবং পুকুরে বাঁধ দিয়ে ভরাট করছিল। এই সময় পুলিশ চার বালু শ্রমিককেও আটক করে। তিনি জানান, দৈনিক জনকণ্ঠে ও দৈনিক মুন্সীগঞ্জ কাগজে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত সচিত্র রিপোর্টের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর এ সকল পদক্ষেপ গ্রহন করে।

সদর থানার ওসি আবুল খায়ের ফকির জানান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই পুকুরটি রক্ষা জরুরি। পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলাটি পুলিশ গুরুত্বের সাথে দেখছে। শহরবাসী অনতিবিলম্বে পুকুরে ফেলা বালু অপসারণ এবং বাঁধ সরিয়ে নিয়ে এই পুকুরটি আগের পুরোপুরি রূপে ফিরিয়ে আনার দাবী জানিয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিরোধী কোন কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। পরিবেশ সংরক্ষণে সর্বোচ্চ পদক্ষেপে গ্রহনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ রয়েছে। তাই প্রশাসন পুকুরটি রক্ষায় সবরকমের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের মুন্সীগঞ্জ শাখার সভাপতি এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান জানান, এই পুকুরটি হচ্ছে শহরের প্রাণ। এটি বিনষ্টকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবী।

মুন্সিগঞ্জেরকাগজ