লৌহজংয়ের দুর্ধর্ষ বাবুকে রিমান্ডে নেবে পুলিশ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে চাঞ্চল্যকর আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন খান হত্যা এবং এই মামলার অন্যতম পরিচালনাকারী যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহাবুদ্দিন খান বাবুকে (৩০) জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। বাবু বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠান। এ খবর পেয়ে পুলিশ বাবুর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লৌহজং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হযরত আলী শনিবার সন্ধ্যায় জানান, শাহাবুদ্দিন খান বাবু এতটাই দুর্ধর্ষ যে মোবারক হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে উপজেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামকে অপহরণের পর পায়ের রগ কেটে নির্মমভাবে হত্যা করে। এর পর থেকেই বাবু পলাতক ছিল।

পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর মোবারক হোসেন খানকে তাঁর ঘরের সামনে গুলি করে হত্যা এবং ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রফিকুল ইসলামকে হত্যা একই সুতোয় গাঁথা। এই দুই হত্যাকাণ্ডেই নেতৃত্বে ছিল শাহাবুদ্দিন খান বাবু।

অভিযোগ উঠেছে, কিলিং বাহিনীর অন্যতম সদস্য শাহাবুদ্দিন খান বাবু জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। বড় অঙ্কের বাজেট নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নিহত রফিকুল ইসলামের ভাই মামলার বাদী নজরুল ইসলাম এবং মোবারক হোসেন খান হত্যা মামলার বাদী ও তাঁর মেয়ে ওয়াহিদা খান দিয়া। বাবু বেরিয়ে এলে শুধু এই দুই বাদীর জীবনই নয়, পুরো পরিবারের জীবন বিপন্ন হবে-এমন আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। কালো টাকার মালিক এই চক্র (বাবু) রাজধানী ঢাকার নানা অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। সম্প্রতি ওয়াহিদা খান দিয়ার ওপর ঢাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এসআই হযরত আলী জানান, নিরীহ বাদীপক্ষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আসামিপক্ষ এতটাই দুর্ধর্ষ যে বাদীপক্ষের মধ্যে পুরনো শঙ্কা কাজ করছে। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরও জামিনে বেরিয়ে এসে আরেকজনকে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অপহরণ করে মাইক্রোবাসের ভেতরে নির্যাতন করে হত্যা ও লাশ গুম করার চেষ্টাটি ছিল পরিকল্পিত। সার্বিক বিষয় আদালতকে অবগত করা হবে।

এসআই আরো জানান, এ মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সব আসামিই হত্যায় শাহাবুদ্দিন খান বাবুর জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, নিহত মোবারক ছিলেন ঢাকার মতিঝিলের ব্যবসায়ী কাদের হত্যা মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী।

কালের কন্ঠ