বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ অনিশ্চিত

সোহেল মামুন: ২০১৮ সালের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু চালুর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইসঙ্গে সেতুর ওপর দিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত রেল সংযোগও চালু হওয়ার কথা। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা শেষ করেছে একটি অস্ট্রলিয়ান কোম্পানি। তবে এই রেলপথ যদি ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত বিস্তৃত না হয় তবে পদ্মা সেতুর ওপর রেলপথ নির্মাণ করলেও তা কোনও কাজে আসবে না। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, তহবিলের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ৮২.২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রেলপথের নির্মাণকাজ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে রেলপথ নির্মাণের জন্য তহবিল খোঁজা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যেই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) একটি চিঠি পাঠিয়েছি। তবে তারা এখনও উত্তর দেয়নি।’ এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তহবিল খুঁজবে পরিকল্পনা কমিশন। গত ১৭ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর কন্সট্রাকশন সাইটে গিয়ে দেখা যায় জোরেশেরেই চলছে বিশাল এ নির্মাণযজ্ঞ। সয়েল টেস্টিং, ড্রেজিং চলছে পুরোদমে। কিন্তু ঢাকা ও মাওয়া কোথাও রেলপথ নির্মাণের কোনও কাজ শুরু হতে দেখা যায়নি।

ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত নতুন এই রেলপথে ১২০ কিলোমিটার বেগে রেল চলাচল করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ২৭টি বড় ও ৫৬টি ছোট রেল সেতু থাকবে। ৫টি রেল ক্রসিংসহ ৪০টি আন্ডারপাসসহ ন্যাশনাল হাইওয়ে সড়কে ৩টি ওভারপাস থাকবে।

২০১১ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) এর নির্বাহী কমিটি রেলপথসহ পদ্মা সেতুর নকশা পাস করে। রেলসূত্র জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকল্প পরিকল্পনা সম্পূর্ণ করেছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত রেলপথ দুটি প্রকল্পের অধীনে সম্পন্ন হবে। একটি কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে মাওয়া, আরেকটি জাজিরা পয়েন্ট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা। উভয়পাশকে একত্রিত করবে পদ্মা সেতু যদিও পদ্মা সেতুর অংশের রেলপথ নির্মাণটি পড়েছে প্রথম প্রকল্পের মধ্যে। ওই পরিকল্পনাটি ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

দুটি প্রকল্পের মোট খরচ ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে ভূমি অধিগ্রহণে খরচ হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা লাগবে নির্মাণ কাজ শেষ করতে। যার মধ্যে রয়েছে রেলপথ নির্মাণ, রেল সেতু, স্টেশনসহ যাবতীয় কন্সট্রাকশন সংক্রান্ত কাজ।

সূত্র জানিয়েছে, রেলপথের দৈর্ঘ হবে মোট ৮২.২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪৪.২ কিলোমিটার পথ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুর ওপর রেলপথ মোট ৬.১৫ কিলোমিটার আর বাকি ৩১.৮৫ কিলোমিটারে পথ পদ্মা সেতু থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত। রেল মন্ত্রণালয় আশা করছে, ২০২২ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে অর্থ যোগানের ওপর।

দুটি প্রকল্পের মোট খরচ ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে ভূমি অধিগ্রহণে খরচ হবে ৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা লাগবে নির্মাণ কাজ শেষ করতে। যার মধ্যে রয়েছে রেলপথ নির্মাণ, রেল সেতু, স্টেশনসহ যাবতীয় কন্সট্রাকশন সংক্রান্ত কাজ।

সূত্র জানিয়েছে ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও রেলপথ চালু করা সম্ভব হবে না। যদিও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ‘যদি নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হয় তবে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ফরিদপুর রেলওয়ে নির্মাণ কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উত্তর না দিলেও আমরা আশা করছি এডিবি এই প্রজেক্টে আমাদের সহায়তা করবে।’

এ পথে মোট ৩৬৫ দশমিক ১০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। যাতে ২৭৩ হেক্টর ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ৯২ হেক্টর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) এর ভূমি থাকবে। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত নতুন এই রেলপথে ১২০ কিলোমিটার বেগে রেল চলাচল করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ২৭টি বড় ও ৫৬টি ছোট রেল সেতু থাকবে। ৫টি রেল ক্রসিংসহ ৪০টি আন্ডারপাসসহ ন্যাশনাল হাইওয়ে সড়কে ৩টি ওভারপাস থাকবে।

বাংলা ট্রিবিউন