ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না

হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার বিচার। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটির বিচার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তারপর ১০ মাস পার হয়েছে কিন্তু মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু দ্য রিপোর্টকে বলেন, মামলার অভিযোগ প্রমাণের জন্য সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ মামলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী এখনো সাক্ষ্য দিতে আসেনি। তাই মামলাটি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।

আব্দুল্লাহ আবু আরও বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের আদেশকে সম্মান জানাই। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে খুব দ্রুত মামলাটি যেন নিষ্পত্তি হয় সেজন্য চেষ্টা করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘মামলাটি যেন খুব দ্রুত শেষ হয় তা আমরা চাই। হাইকোর্টের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কেন যে মামলাটি শেষ হচ্ছে না তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা চাই মামলাটির যেন খুব দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।’

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বই মেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন হুমায়ুন আজাদ। তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পরদিন হুমায়ুন আজাদের ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

ওই হামলার পর তিনি ২২ দিন ঢাকা সিএমএইচ-এ এবং ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসারত ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট ড. হুমায়ুন আজাদ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর সিআইডির পরিদর্শক কাজী আবদুল মালেক জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি, নুর মোহাম্মাদ সাবু ওরফে শামীম, মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় শায়খ আবদুর রহমান ও আতাউর রহমানের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় অভিযোগ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।

হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের নাম মামলার চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পাঁচ দফায় ১২ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

চার্জশিট থেকে বাদ যাওয়া অপর চার আসামি হলেন, আবু আব্বাস ভূঁইয়া, গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তফা মাহমুদ, আবদুল খালেক গবা ওরফে টাইগার ও শফিক উল্লাহ সাদ।

সাক্ষ্য গ্রহণের এক পর্যায়ে মামলার বাদী ও হুমায়ুন আজাদের ভাই মো. মঞ্জুর কবির ২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন করলে ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান হুমায়ুন আজাদকে হত্যার অভিযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়।

২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূইয়া বর্তমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

এ মামলায় জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক ও আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক, আনোয়ার আলম ওরফে ভাগিনা শহিদ, নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু (পলাতক) ও সালাহউদ্দিন (পলাতক)।

দ্য রিপোর্ট