মধ্যম আয়ের দেশ কথাটা কেবল একটা সূচক – ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এবং ১৯৭৪ সালে কানাডার এমসি মাস্টার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে তিনি সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি) যোগ দেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এ বছরের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা ও আগামী বছরের অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শারমিনুর নাহার

কালের কণ্ঠ : গত এক দশকের অধিককাল জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে। নানা অনিশ্চয়তার কথা বলা হলেও জিডিপির এ মান ধরে রাখার কারণ কী?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : বাংলাদেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশজুড়ে আছে বেসরকারি খাত। বারবার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া এবং নানা অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় অর্থনীতির গতি প্রবাহিত হয়েছে। কখনো উঠেছে আবার কখনো নেমেছে; কিন্তু একেবারে খুব বেশি নেমে যায়নি। নব্বইয়ের দশক থেকে দেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিও একটি মাত্রায় চলেছে, যেটা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। সে সময় থেকেই মূলত সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো বাড়তে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি-রপ্তানি, জনশক্তি রপ্তানি ইত্যাদি মোটামুটি মাত্রায় চলেছে। আবার সরকারি ব্যয়, অবকাঠামোগত খাত উন্নত হয়েছে। যেমন- কুইক রেন্টাল (যদিও এটা নিয়ে বিতর্ক আছে), যোগাযোগ খাত ইত্যাদি উন্নত হয়েছে।

আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, মানুষ কাজ করছে। সে তার জীবিকার তাগিদে ও নিজের প্রয়োজনেই কাজ করছে। যেমন, কৃষক উৎপাদন করে যাচ্ছে। সরকার কী দিল না দিল সেদিকে কিন্তু সে তাকিয়ে নেই। গার্মেন্ট খাত, বিশাল একটি রপ্তানিমুখী শ্রমের বাজার এটি। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যেটি ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে। সুতরাং সব দিক থেকেই একটা ইতিবাচক পরিস্থিতি আছে; যদিও এটাকে আরো বাড়ানো যেত সরকার যদি আরো সহায়তা করতে পারত। তাহলে সরকারের নীতি ও পরিকল্পনাগুলোর সব কটিই বাস্তবায়িত হতো, সময়মতো প্রকল্পগুলো শেষ করা যেত। তাহলে গতিশীলতা বাড়ত। মানুষ যতখানি করছে, সরকারের সহায়তার ফলে তার আরো উন্নতি হতো, সঙ্গে সঙ্গে দেশেও একটা পরিবর্তন ঘটত। তবে এটা একটা ভালো দিক যে কখনো এই হার খুব বেশি নামেনি আবার খুব বেশি ওঠেনি। ফলে একটা নির্দিষ্ট মাত্রা অব্যাহত থেকেছে। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : প্রস্তাবিত সরকারি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হবে জুলাই ২০১৫ থেকে। এর ফলে বাজেট এবং বাজারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : ১৩ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানো হয়েছে প্রায় ছয় বছর পর। এটির অবশ্যই যৌক্তিকতা আছে। এককালীন এই বিশাল অঙ্ক অবশ্যই বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে; যদিও সরকার বলছে চাপ পড়বে না। বর্তমানে রাজস্ব আয় একটু মন্থর হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক সাহায্য (ঋণ কমেছে, ডিসবার্সমেন্ট কম, অবশ্য পাইপলাইনে কিছু আছে), তৃতীয়ত, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বেড়েছে। কারণ ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়ায় লোকে সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে। বাজেটে হয়তো এ বছরে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা যাবে। কিন্তু পরের বছর কিছু লোকের ইনক্রিমেন্ট হবে, নতুন চাকরিতে যুক্ত হবে। ফলে ব্যয় বাড়বে। আর এটা তো একটা অর্থবছরের প্রসঙ্গ নয়, প্রতিবছরই পর্যায়ক্রমে বাড়বে। আবার এই ব্যয় মেটানোর জন্য যদি কর বাড়ানো হয়, তার প্রভাব নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে বেশি পড়বে। তাই কর বাড়ানোর সময়ও সেটা ভাবতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর কারণে বেসরকারি কম্পানিগুলোতে চাপ পড়বে। স্বাভাবিকভাবে তাদেরও বেতন বাড়াতে হবে, যদিও আপাতভাবে মনে হতে পারে তারা বেশি পাচ্ছে; কিন্তু সরকারি চাকরির মতো সুবিধা তো আর তারা পাচ্ছে না। ফলে তাদেরও বেতন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। আবার বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাজারমূল্য, বাড়িভাড়া বাড়তে পারে। বাজারের লোক তো আর জানবে না কে সরকারি কর্মকর্তা আর কে নয়। সুতরাং সে দাম বাড়াবে। ফলে মূল্যস্ফীতি হবে। সব দিক থেকে একটা সামাজিক টেনশন তৈরি হবে।

কালের কণ্ঠ : এভাবে দীর্ঘদিন পর একবারে বেতন বাড়ানো অর্থনীতির জন্য কি ইতিবাচক বলে মনে হয়?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : অনেক দেশে একটা স্থায়ী জাতীয় পে কমিশন থাকে। তারাই প্রতিবছর বাজার পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে। এ বছর মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ এমন; অতএব এত টাকা বাড়তে পারে। যদি না বাড়ানো যায়, সেটাও ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সব সময়ই অল্প অল্প করে বাড়ে। আমাদের এখানে আমরা এখনো তেমনটা করতে পারিনি। সরকারকে এমন একটি কাঠামো অনুসরণ করতে হবে। এর আগে গার্মেন্টে বেতন বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু আমরা জানি যে এখনো সবাই সেটা অনুসরণ করছে না।

এবার পে কমিশনের আরেকটি দিক হলো, তারা পরিবারের সদস্যসংখ্যা ছয়জন হিসাব করেছে, যেটা অতীতে কখনো করা হয়নি। সাধারণভাবে চারজন বা পাঁচজন, দুই সন্তানের সঙ্গে মা অথবা বাবা হিসাব করা হয়। কিন্তু এবার ছয়জন করাতে বেতনটা বাড়ছে। সরকারকে আসলে লক্ষ রাখতে হবে তার অন্য কাজ আছে। তার মূল কাজ সামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ খাত। তাই প্রশাসন ছোট রেখে কিভাবে তার দক্ষতা বাড়ানো যায় সে চেষ্টা করা উচিত। লোকবল কমিয়ে তাকে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করাতে হবে। ছোট প্রশাসন ও প্রযুক্তিবান্ধব- এদিকে নজর দিতে হবে। সরকারের পুরো প্রশাসনেই একটা সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে হবে না। সরকার তো সবার দায়িত্ব নিয়ে সবাইকে চালাতে পারবে না। তার নিজের কাজে মনোযোগ দিতে হবে।

কালের কণ্ঠ : ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের বিশৃৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। খেলাপি ঋণ ক্রমেই বাড়ছে- এ থেকে উত্তরণের উপায় কী?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : আমাদের সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাংকিং খাত অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, নিয়মানুবর্তী ছিল। এখন এটিই কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। এর একটা বড় কারণ রাজনৈতিক প্রভাব। অর্থনৈতিক পরিচালনায় যদি রাজনীতি চলে আসে, তাহলে খুবই খারাপ প্রভাব পড়ে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির দুর্বলতাও রয়েছে। তার আইন রয়েছে; কিন্তু সেটা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। ব্যাংকের যে দুর্নীতিগুলো ধরা পড়ল, যেমন- বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক, এগুলোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতেও তিন বছর সময় লাগল। সার্বিকভাবে সুশাসন নিশ্চিত করতে যথাযথ দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও এসব কাজের সঙ্গে জড়িত। ঋণ দেওয়াই হচ্ছে এমন বিবেচনা করে। সুতরাং তারা তো এমন করবেই। এর আগে হরতালের কারণে ব্যবসায় মন্দা বলে বাংলাদেশ ব্যাংক রিশিডিউল করার অনুমতি দিল। এতে যিনি দিতে পারতেন, তিনিও দিলেন না। সময় বাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন করলেন। তাই খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে কোনো ছাড়ই আসলে কাজে লাগে না। অর্থ পরিশোধ না করার একটা সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে গেছে। মনে করে ব্যাংকের ঋণ না দিলে কী হয়। যেটা করা দরকার- প্রথমত, ঋণের কোয়ালিটি দেখা। দ্বিতীয়ত, ঋণের টাকাটা নিয়ে যেন সঠিকভাবে খাটায়, সেটার তদারকি করা। তৃতীয়ত, ব্যাংকের ওপর ঋণটি চাপ সৃষ্টি করছে কি না। এসব বিবেচনায় ঋণ দিলে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমানো যেতে পারে। তবে এটা ঠিক যে খেলাপি ঋণে ছাড় দিয়ে কোনো লাভ হয় না।

কালের কণ্ঠ : দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ- বর্তমানে কোনোটাই কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই, বিশেষ করে সামনের লক্ষ্যকে পূরণ করার জন্য।

সালেহউদ্দিন আহমেদ : গত বছর নির্বাচনের পর ভাবা হয়েছিল একটা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে। কিন্তু সেটা হলো না, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়েনি, ব্যাংকের তারল্য বেড়েছে, কর্মসংস্থান হয়নি। এক বছরে নতুন কোনো কর্মসংস্থান হয়নি বা কোনো জনশক্তিও রপ্তানি হয়নি; যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, কিন্তু তার পরও বিনিয়োগ বাড়েনি। একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। অর্থনীতির কী হবে, প্রশাসনের কী হবে। এটা পাঁচ বছর টিকবে কি না। দ্বিতীয়ত, আমাদের অবকাঠামো এখনো উন্নত হয়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে, ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে এখনো হয়নি। গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নত হয়নি, রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। সারা দেশে এমন কোনো রাস্তা নেই যেটা ভালো। চট্টগ্রামে বন্দর উন্নত করা হচ্ছে না। তৃতীয়ত, আইটি; আমাদের আইটির অবস্থা খুবই ধীর। এমনকি পাশের দেশগুলোর তুলনায় এটা ধীর। চতুর্থত, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন। প্রশাসনিক অর্গানগুলোতে এখনো নিজেদের সিদ্ধান্ত-ক্ষমতা বাড়েনি। পঞ্চমত, বাজার কাঠামো। কৃষক প্রচুর সবজি উৎপাদন করল; কিন্তু দাম পেল না। বাজার কাঠামোতে একটা অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা চলছে। সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। মূল্যের ন্যায্যতা থাকতে হবে, নির্দিষ্ট লোকের হাতে টাকাটা পৌঁছাতে হবে। ষষ্ঠত, উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন। এসব করতে পারলে অর্থনীতি উন্নত হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্যের পর্যাপ্ত ব্যবহার করতে পারব।

কালের কণ্ঠ : বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে কী করা প্রয়োজন?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আসলে যৌক্তিক। সম্পর্কের কখনো অবনতি হয় না। দাতা সংস্থাগুলো সব সময় যে একেবারে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য দিতে চায়, এমন নয়। তারাও তাদের স্বার্থ রক্ষা করে ঋণ দেয়। আমাদের সমস্যা হয় আমরা রোলটা প্লে করতে পারি না। উন্নয়নের কৌশল তো সরকারকে ঠিক করতে হবে। আমাদের ঠিক থাকে না, এটা আমাদের নিজস্ব দুর্বলতা। ফলে আমরা আমাদের প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়িয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারি না। অনেক সময় আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ফেলি। যেমন- বিশ্বব্যাংক বলল, দুর্নীতি আছে। সরকার তাৎক্ষণিক বলল, নেই। এটা না করে যদি সরকার বলত যে আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, তাহলে ভালো হতো। আমরা সদস্য, তারা আমাদের ঋণ দিতে নীতিগতভাবে বাধ্য। আমার অধিকার আছে এটা পাওয়ার। তাই প্রথমে নিজেদের অবস্থানটা ঠিক করা কেন, কিভাবে- এটা নির্দিষ্ট করলেই কোনো সমস্যা থাকবে না।

কালের কণ্ঠ : ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে- এটার সম্ভাব্যতা, বাস্তব ভিত্তি কতটুকু দেখতে পাচ্ছেন?

সালেহউদ্দিন আহমেদ : মধ্যম আয়ের দেশের যে লক্ষ্যমাত্রা সেটা থেকে আমরা দূরে নই। আর এটা তো স্থবির কিছু নয়। এটা পরিবর্তিত হবে, আজকে যে লক্ষ্যমাত্রা- পরে এটা বাড়বে। মধ্যম আয়ের দেশ হলেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান যে এর চেয়ে ভালো হবে, সেটা কি বলা যাচ্ছে? তাই এটা নিয়ে এত হইচই করার কিছু নেই। এখানে ব্যক্তিগত আয়ের বৈষম্য বাড়ছে, আঞ্চলিক আয়ের বৈষম্য বাড়ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আপেক্ষিকভাবে বাড়েনি, মুষ্টিমেয় মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আর এমন মধ্যম আয়ের দেশ তো আফ্রিকার অনেক দেশ, আজ থেকে ১০ বছর আগে হয়ে গেছে। তাহলে কি বলা যায় যে সে দেশগুলোর মানুষ ভালো আছে? মধ্যম আয়ের দেশ কথাটা কেবল একটা সূচক। এর সঙ্গে অন্যান্য সূচক যেমন- মানুষের জীবনযাত্রার মান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজের পরিবেশ, কাজের দক্ষতা, মান ইত্যাদি দেখতে হবে। শুধু মাথাপিছু আয় বাড়লে হবে না।

মুষ্টিমেয় কিছু লোক, যারা ক্ষমতার কাছাকাছি আছে, কোটি কোটি টাকা বানিয়ে ফেলেছে। এমন আয় যোগ করে হয়তো মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আসল যেটা, টেকসই, সুষম, জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন তা হবে না। তাই প্রথমে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

কালের কণ্ঠ : অনেক ধন্যবাদ।

সালেহউদ্দিন আহমেদ : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

 

কালের কণ্ঠ

Comments are closed.