বাচসাসের আজীবন সম্মাননা পেলেন রাজ্জাক, কবরী, চাষী নজরুল

বাচসাসের এবারের আজীবন সম্মাননায় সম্মানিত হলেন নায়করাজ রাজ্জাক, কবরী ও চাষী নজরুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ সম্মাননা পেলেন পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন ও চ্যানেল আই এর কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর।

শনিবার ঢাকায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত পাঁচ বছরের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বর্তমান সংকটকাল শেষে ঘুরে দাঁড়িছে।

মন্ত্রী বলেন, অন্ধকার থেকে আলোর এ অভিযাত্রায় চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য,

সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং সে সঙ্গে আধুনিকায়নের প্রতি। প্রযোজক, পরিচালক, নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, কলাকুশলী সকলকে এ ঘুরে দাঁড়ানোর পর্বে যোগ দিতে হবে।

এ সময় ২০০৯ থেকে ২০১৩ প্রতিবছরের জন্য ১৭টি ক্যাটাগরিতে দেয়া বাচসাস পুরস্কারে সর্বোচ্চ ১৩টি পুরস্কার জিতে নেয় ‘গেরিলা’ ছবিটি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অতীতের মতো আবারও মুম্বাই-কলকাতা-লাহোরকে ছাড়িয়ে যাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অশালীন-নকল-উস্কানিমূলক চলচ্চিত্র চাইনা, চাই গণমুখী মুক্তমন্ত্রে উজ্জীবিত চলচ্চিত্র। সরকারের চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণা, ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তন ও অনুদান বৃদ্ধির বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি।

২০০৯ সালে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে মোরশেদুল ইসলামের প্রিয়তমেষু। চলচ্চিত্রটির জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কারও জিতে নেন তিনি।

এছাড়াও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরো ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে প্রিয়তমেষু।

২০০৯ সালের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ফেরদৌস (গঙ্গাযাত্রা), চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা) ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন পপি (গঙ্গাযাত্রা)।

২০১০ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে গহীনে শব্দ। এছাড়া এ চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতটি পুরস্কার জিতে নেয়।

২০১০ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা শাকিব খান (ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না) ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মৌসুমী পুরস্কার পেয়েছেন (গোলাপি এখন বিলাতে) ছবির জন্য।

২০১১ সালে নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর ‘গেরিলা’ পেয়েছে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার। এছাড়াও এ চলচ্চিত্রটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৩টি পুরস্কার জিতেছে।

২০১১ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা আমিন খান (গরিবের মন অনেক বড়) ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জয়া আহসান (গেরিলা) পুরস্কার জিতে নেয়।

২০১২ সালের সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে এই ছবিটি।

২০১২ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মাসুদ আখন্দ (পিতা), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ববিতা (খোদার পরে মা) পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।

২০১৩ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’। এ চলচ্চিত্রটির জন্য গাজী রাকায়েত শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার জিতেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতটি পুরস্কার জিতেছে এ ছবিটি।

২০১৩ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তিতাস জিয়া (মৃত্তিকা মায়া), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অপু বিশ্বাস (মাই নেম ইজ খান) ও মাহি (ভালোবাসা আজকাল) পুরস্কার জিতেছেন।

অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাচসাস সদস্যবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ নিউজ

Comments are closed.