মেঘনার ত্রি-মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নৌশ্রমিকরা

আব্দুর রহিম: মেঘনা নদীর ত্রি-মোহনায় সোনারগাঁ-মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া এলাকায় চলাচলরত নৌযানের শ্রমিকদের উপরে হামলা, ছিনতাই ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধির কারণে নিরাপত্তহীনতায় রয়েছে এসব এলাকা দিয়ে চলাচলকারী বালুবাহী বাল্কহেড ও ইঞ্জিন চালিত নৌযান ও নৌযানে থাকা শ্রমিক কর্মচারীরা। স্থানীয় দু’টি ইজারাদার গ্রুপ এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

এই এলাকায় নদী পথে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে চাঁদা আদায়কারী দুইটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধওে দ্বন্ধ বিদ্যমান রয়েছে। আর ইদারাদার প্রতিষ্ঠান দুইটির দ্বন্ধের জের ধরেই এসব এলাকা দিয়ে চলাচলকারী নৌযান ও শ্রমিক-কর্মচারীদের উপর বিভিন্ন সময় নেমে আসে নির্যাতনের ষ্টিম রোলার। আর এ ভাবেই দিনের পর দিন এসব নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে নৌযানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীরা। তবে নৌযান শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। ফতুল্লার পাগলায় অবস্থিত বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নৌশ্রমিকদের উপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ নিয়ে কোন ব্যবস্থা না নিলে নৌ ধর্মঘটসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।

সূত্রমতে, মেঘনা নদীর ত্রি-মোহনা হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁ-মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও মারধরের ঘটনায় নৌ শ্রমিকরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে একাধিক বার অবগত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বালু মহলের দুইটি ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের দ্বন্ধের জের ধরে নৌ শ্রমিকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
অপর একটি সূত্রে জানাগেছে, গজারিয়া-মুন্সীগঞ্জ-সোনারগাঁ এলাকায় মেঘনার ত্রি-মোহনায় চলাচলকারী নৌ শ্রমিকেরা ইচ্ছামত কোন ইজারাদারের একক মহলে বালু আনতে পারে না। চাঁদনী ট্রেডার্স ও বিজয় ট্রেডার্স নামের দুটি ইজারাদার গ্রুপই তাদের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে নৌ-শ্রমিকদের মারধর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং তাদের মহল থেকে বালু আনতে বলে।

শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইদানীং চিকন বালু আনতে গিয়ে চাঁদনী ট্রেডার্সের লোকজনের হামলার শিকার হয়েছে এমভি আজিজুল হাকিমের সুকানী পারভেজ, এমভি রোমান-৩ এর সুকানী সহিদ, এমভি নাছিরাবাদ-১ এর সুকানী আ. খালেক, এমভি সাঈদের সুকানি সগির, এমভি রাতুল আবিদ নৌযানের সুকানি জলিল, এমভি কেআই নৌযানের সুকানি তোতা মিয়া,এমবি নাছিরাবাদ-২এর সুকানি জাফরকে মারধর করে টাকা পয়সা নিয়ে যায়।

এদিকে, নৌযান শ্রমিকদের উপর হামলা বন্ধে ইতিমধ্যে নৌপুলিশের ডিআইজি, নারায়নগঞ্জ পুলিশ সুপার, নারায়নগঞ্জ সদর, ফতুল্লা, সোনারগাঁ, গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তার দপ্তরে অনুলিপি প্রদানসহ ধর্ণা করেও কোন স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই হতাশ হয়ে শ্রমিকেরা নৌযান চালাচ্ছে না। নৌযান শ্রমিকদের উপর হামলা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।

এ ব্যপারে ফতুল্লার পাগলায় অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, নৌশ্রমিকদের উপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ নিয়ে কোন ব্যবস্থা না নিলে নৌ ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.