মুন্সীগঞ্জের সিনেমা হল লোকসানের কারনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে!

চায়ের টঙে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন
মুন্সীগঞ্জে একসময় বেশ কয়েকটি সিনেমা হল ছিল। বিনোদনের একমাত্র মাধ্যমই ছিল সিনেমা হলে সিনেমা দেখা। পরিবারেই সবাইকে নিয়ে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে আসতেন। সময়ের বিবর্তনে ডিজিটালের যুগে সিনেমা শিল্প আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিভিন্ন চ্যানেল, মোবাইলে আপলোডিং, ইন্টারনেট ও ডিস লাইনের মাধ্যমে প্রতি ঘরে ঘরে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা থাকায় সিনেমা হলে মানুষ আসতে চাচ্ছে না। সিনেমা হলের প্রতি বিমুখ হয়ে গেছে। ঘরে বসেই বিনোদনের সুযোগ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে মানুষ। এদিকে, জেলার বিভিন্ন চায়ের টঙে বা দোকানে সিনেমা প্রদর্শণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। প্রতিযোগিতার কারণে কেউ কেউ অশ্লীল ছবি প্রদর্শণ করেন এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কয়েকবছর আগেও মুন্সীগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় ৯টি সিনেমা হল ছিল। সিনেমা হলগুলো শহরের ছবিঘর, দর্পণা, কমলাঘাটের মিনার্ভা, আয়না, ধলাগাঁও বাজারের আঁখি, মুক্তারপুরের পান্না সিনেমা হল, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সদরের পপি, বেতকা বাজারের স্বপ্নছায়া, আলদী বাজারের শীতল হল। দর্শকের অভাবে ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ৯টি হলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৮টি সিনেমা হলই বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায়ও একই অবস্থা। বর্তমানে মুক্তারপুরের একমাত্র পান্না সিনেমা হল চালু আছে। কিন্তু দর্শক সমাগম না হওয়ায় এবং দিন দিন লোকসানের পাল্লা ভারি হওয়ায় এ হলটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভাল ভাল ছবি এনেও দর্শকদের হলমুখি করা যাচ্ছে না। শিল্প অধ্যুষিত এ অঞ্চলের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম পান্না হল একসময় জমজমাট ছিল। হলভর্তি দর্শক ছিল। কিন্তু আজ তা নেই। ফলে হল মালিক ভিন্ন ব্যবসার কথা ভাবছেন।

এদিকে, দিঘীরপাড়, বাংলাবাজার, বেশনাল, কমলাঘাট, হাটলক্ষীগঞ্জ, মুন্সীরহাট, মদিনাবাজার, চিতলিয়া বাজার, দয়ালবাজার, গোয়ালঘূর্ণি, আলদী বাজার, পুরাবাজার এসমস্ত এলাকায় চায়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর শুরু হয় জমজমাট সিনেমা প্রদর্শন। দর্শকদের আকৃষ্ট করতে একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে অরুচিকর ছবি প্রদর্শন করতে দ্বিধা করছে না। ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। বয়স্করা বিব্রত হচ্ছেন। বিষয়টি প্রশাসনের ভেবে দেখা উচিত। এদের বিষয়ে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষৎতে সমাজে বিপর্যয় নেমে আসবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

হলে ছবি দেখার ক্ষেত্রে কেন এত বিমুখতা? এ বিষয়ে আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এখন বাড়িতে বসে বিভিন্ন চ্যানেলে হিন্দি, ইংরেজী ও বাংলা ছবি দেখতে পারেন। তাছাড়া ইন্টারনেট, মোবাইলে ডাউনলোড করে ছবি দেখা যায়। ফলে মানুষ আর আগের মতো সিনেমা হলে আসার আগ্রহ দেখায় না। তাছাড়া পরিবারের সকলকে নিয়ে সিনেমা হলে সিনেমা দেখার পরিবেশও নেই। এসব ছাড়াও পথচারীরা ইচ্ছে করলে এখন রাস্তাঘাটের টঙের দোকানে বসে সিনেমা দেখতে পারেন। সুতরাং হল ভর্তি দর্শক হওয়ার এখন সুযোগ নেই। সবকিছু অতীত ইতিহাস। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন এবং রুচি পরিবর্তনের কারণে আমরা আমাদের বাংলাদেশের সিনেমার ঐতিহ্য হারাতে বসেছি।

এ বিষয়ে পান্না সিনেমা হলের মালিক আজগর হোসেন বলেন, পর্যাপ্ত দর্শক না হওয়ার কারণে এ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর। দুইটি ঈদ আর নতুন ছবির ক্ষেত্রে শুধু শুক্রবার দর্শকের সমাগম হয়। বছরের বাকি সময় দর্শক শূণ্য সিনেমা হল। যার কারণে দিনের পর দিন ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। ছবি চালিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিটি বাজারের চায়ের দোকানো কাস্টমারদের আকৃষ্ট করার জন্য ভিডিও বা ডিস চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি দেখানো হয়। যার ফলে মানুষ আর হলমুখি হতে চায় না। তিনি বলেন, সিনেমা শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।