অস্ত্রেসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে মেঘনা নদীতে বালু উত্তোলন : সংঘর্ষের আশঙ্কা!

কাজী দীপু: মহালের সীমানা অতিক্রম করে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে এখন অস্ত্রেসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে বালু উত্তোলন কার্যক্রম চালাচ্ছে ইজারাদার সিন্ডিকেট। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় দুই ইজারাদার গ্র“প এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দুই গ্র“পই অস্ত্রসন্ত্র নিয়ে নদীতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বালুবাহি বলগেট জাহাজের টোকেন মানি আদায় করছে। এর ফলে যে কোন সময় দুই ইজারাদার গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মেঘনা নদীর দুইটি বালু মহালে বালু উত্তোলনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই ইজারাদার গ্র“পকে নোটিশ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সীমানার মহালের মেসার্স বিজয় এন্টারপ্রাইজের ইজারাদার সিন্ডিকেট সদস্য ও আ’লীগ নেতা মো.আফসারউদ্দিন ভুইয়া অভিযোগ করে জানান, গজারিয়া সীমানার মহালের চাদঁনী ট্রের্ডাস এর ইজারাদার সিন্ডিকেট মহালের সীমানা অতিক্রম করে জোরপূর্বক তাদের সীমানার বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী নদীতে অবস্থান করায় যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিয়মানুযায়ী মহালের কাছে টোকেন মানি আদায় করার কথা থাকলেও চাদঁনী ট্রেডার্সের ইজারাদার সিন্ডিকেট তা অমান্য করে মেঘনা নদীর প্রবেশ মুখে অবস্থান নিয়ে জোরপূর্বক বালুবাহি বলগেট জাহাজের টোকেন মানি আদায় করে তাদের মহালের বালু লোড করতে বাধ্য করছে।

তবে গজারিয়া সীমনার মহালের চাদঁনী ট্রেডার্স এর ইজারাদার চানঁ মিয়া জানান, নির্ধারণ করে দেওয়া সীমানার মধ্যেই তাদের লোকজন বালু উত্তোলন করছে। তাদের মহালের পরিধি ৪’শ একর। তিনি বলেন, অস্ত্রেসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।

নদীতে টহলরত মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এএসআই মো. নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মেঘনা নদী এলাকা ও বালু মহালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই ইজারাদার গ্র“পকে চিঠি নোটিশ করা হয়েছে। মেঘনা নদীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দাখিল করা অভিযোগের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ইজারাদারদের মহালের লীজ বাতিল করা হবে।

Comments are closed.