প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দিন দিন অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে

জাহাঙ্গীর আলম: মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার শতাব্দী প্রাচীন আউটশাহী রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়। এ দেশের অনেক জ্ঞানী আর গুনীদের বিদ্যাপিঠটিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দিন দিন অশান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। এখানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রভাব শালীদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ এক শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

জানা যায় বিগত ১২/১২/২০১৪ইং তারিখ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলে তা আউটশাহী শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক স্কুলের পরিবর্তে জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের জন্য আদেশ দেন।

কিন্তু উক্ত দিবসে পরীক্ষা শিক্ষা অফিসে না নিয়ে উক্ত স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেদায়েত ইসলাম সবুজ পূনরায় পরস্পর যোগসাজসে দৈনিক জনকন্ঠে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২৮/১২/১৪ইং তারিখ উক্ত বিদ্যালয়েই শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এই হেদায়েত ইসলাম সবুজ নিজে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে কারচুপির মাধ্যমে তা হাসিলের চেষ্টা করছে। কিন্তু ১১৫ বছরের ঐতিহাসিক স্কুলটিকে ধ্বংস হতে দিতে রাজী নন এ স্কুলের প্রাত্যন ছাত্র-ছাত্রীরা।

জানা যায় ১৯৯৮ সালে কোরাম ছাড়াই সবুজ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সহকারী প্রধান শিক্ষক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বই বিক্রি, অতিরিক্ত এস.এস.সির রেজি: ফি নেয়ার অভিযোগ রহিয়াছে। স্বনামধণ্য এ বিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষার্থে সবুজকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য উক্ত বিদ্যালয়ের প্রাত্তন ছাত্র কল্যান সমিতি আশংঙ্কা করছে। তারা জানান বিদ্যালয়টি ধ্বংসের চেষ্টারত স্বার্থন্বেষী মহল চেষ্টা করতে পারে কিন্তু তার ফল ভাল হবে না।

এ বিদ্যালয়ের টি.আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৯৩ সালে আউটশাহী গ্রামের বক্কর মাস্টারকে কমিটিতে নেওয়ার জন্য গোলাগুলিতে উক্ত বিদ্যালয়ের ২ জন ছাত্র সহোদয় ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের দাবী বিতর্কিত সবুজ মাষ্টারকে জ্ঞানী আর গুনীদের বিদ্যাপিঠটিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ১৯৯৩ এর মত ঘটনা তারা দেখতে চান না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল ইসলাম সবুজ তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন।