নতুন কর্মক্ষেত্রের জন্য ৬৪ জেলায় কম্পিউটার ও ভাষা ল্যাব হচ্ছে

নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৯৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভাষা নির্ভর ফ্রিল্যান্সিং ও আউট সোসিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য হুমায়ুন খালিদ রবিবার দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রমকে সারাদেশে সুষমভাবে বিস্তৃত করতে এ প্রকল্পটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। আইটি প্রযুক্তি ভিত্তিক ভাষা শিক্ষা এ প্রকল্পের মূল কার্যক্রম। তাই এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় দেশকে নিশ্চিতভাবে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। সার্বিক বিবেচনা এ প্রকল্পটি অনুমোদন যোগ্য।’

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভিশন ২০২১ সামনে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের পদক্ষেপ আগেই গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যেই আইসিটি বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৫৪৪টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রাফিকস, এ্যানিমেশন, ফ্রিলান্স বা আউটসোর্সিং বিষয়ে দেশে বিদেশে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে কম্পিটার ও ভাষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের যোগ্য জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আইসিটি খাতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা করা হয়েছে। এর মধ্যে আইসিটি খাতে জনশক্তি উন্নয়ন, ডিজিটাল সরকার ও ই-গর্ভনেন্স প্রতিষ্ঠা এবং ই-বিজনেস ইত্যাদি কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে- দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে কম্পিউটার এবং ৬৪ জেলায় একটি করে উপজেলায় ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন করা হবে, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ প্রস্তাবিত ২ হাজার ল্যাবের জন্য মোট ৩৪ হাজার ল্যাপটপ, দুই হাজার প্রিন্টার, দুই হাজার স্ক্যানার, দুই হাজার এলইডি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, এক হাজার ৮৮ হেড ফোন, দুই হাজার থ্রিজি পকেট রাইডার এবং ৬৪ ল্যাঙ্গুয়েজ লানিং সফটওয়্যার সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক হাজার শিক্ষককে ৫০টি ব্যাচে বিভিন্ন ভাষার ওপর প্রশিক্ষণ এবং দুটি ব্যাচে সহকারী প্রোগ্রামারদের র‌্যাব সাপোর্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম সম্পন্ন করা হবে।

সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। তবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আইসিটি ফোরডি এর ওপর একটি ইমপ্যাক্ট ইভাল্যূয়েশন থ্রু-ইন ডেপথ স্টাডি করা হয়েছে। এ সমীক্ষা প্রতিবেদনের আলোকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

দ্য রিপোর্ট

Leave a Reply