ভিডিও কলে সিংগাপুর প্রবাসী স্বামীর আত্নহত্যার দৃশ্য দেখলো স্ত্রী

ডিএম বেলায়েত শাহিন: টঙ্গীবাড়ীর সিংগাপুর প্রবাসী স্বামীর আত্মহত্যার দৃশ্য ভিডিও কলে দেখলো তার স্ত্রী সাথী বেগম (২০)। বড় ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য স্ত্রীর দাবী এক লক্ষ টাকা না দিতে পারায় কলহের জের ধরে মোবাইলে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে ভিডিও কলের মাধ্যমে আত্মহত্যার দৃশ্য দেখিয়ে কর্মস্থলের ওয়ার্কসপের এ্যাংগেলের সাথে গলায় ফাসঁ দিয়ে আত্মহত্যা করে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল গ্রামের সুমন মোল্লা (২৫)।

নিহত সুমন মোল্লাকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় টঙ্গীবাড়ীর হাসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত ১১টায় তার লাশ হাসাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে আনা হলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সুচনা হয়। হাজার হাজার নাড়ি পুরুষ নিহতের বাড়িতে তাকে দেখার জন্য ভিড় জমায়। গত ১৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে সিংগাপুরে নিজ র্কমস্থলের ওয়ার্কশপের এ্যাংগেলের সাথে গলাঁয় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

জানাগেছে, উপজেলার হাসাইল গ্রামের মো. ইলিয়াস মোল্লার ছেলে সুমন মোল্লা (২৫) দেড় বছর পূর্বে চাকুরী নিয়ে সিংগাপুরে যান। এর পর হতেই টাকা পয়সা পাঠানো নিয়ে সুমনের সাথে স্ত্রী সাথী এর ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো। সুমনের বাবা ইলিয়াস মোল্লা জানান, গত ৯ মাস ধরে বৌয়ের কাছেই টাকা পাঠাতো সুমন। আমি কিছু দিন আগে আলু চাষাবাদের জন্য টাকা চাইলে সে আমাকে ৪৬ হাজার টাকা দেয়। এনিয়ে বৌয়ের সাথে তার মন মালিন্য চলছিলো।

ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে সুমন সাথির মোবাইলে ভিডিও কল করে। এ সময় সাথি তার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য সুমনের কাছে ১ লক্ষ টাকা চায়। সুমন বলে প্রতি মাসে আয় করা টাকাতো আমি তোমার কাছেই পাঠিয়ে দেই আমি এখোন ১লক্ষ টাকা কোথায় পাবো। এ সময় আমার কাছে ৪৬ হাজার টাকা পাঠানো নিয়ে দু-জনের মধ্যে কথোপকোতন হয় বলে জানান ইলিয়াস মোল্লা। সে আরো জানায় আমি ভিডিও কলে পরে দেখেছি, কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাথি জানায়, টাকা পাঠাইতে না পারলে তুই গলায় ফাসঁ দিয়ে মরতে পারোসনা।

এ সময় সুমন রাগে ক্ষোভে ভিডিও কল করা অবস্থায় সাথীকে বলে তুমি দেখ আমি কেমনে গলায়ঁ ফাঁস দিয়ে মরি বলে নিজ কর্মস্থলের ওয়ার্কসপের এ্যাংগেলের সাথে গলায় ফাসঁ দিয়ে আত্মহত্যা করে। এদিকে সাথি ডিডিও কলে চেয়ে চেয়ে দেখে গলায়ঁ ফাঁস লাগার পর হাত হতে মোবাইলটি পরে যায় সুমনের। এ ঘটনায় হাসাইল এলাকায় তিব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, নিহত সুমনের স্ত্রী সাথী এলাকায় প্রভাবশালী বংশের মেয়ে হওয়ায় সব সময় শশুর, শাশুরী ও স্বামী পরিবারের অন্যান্যসদস্যদের নির্যাতন করতো। সাথি ও তার পরিবার সুমনের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মহত্যা করেছে। সুমনের বাবা তাকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশ পাঠিয়েছে আর মাত্র ৪৬ হাজার টাকা তাকে দেওয়ায় আজ তার লাশ হতে হলো। এ ব্যাপারে একাধিকবার সাথির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিক্রমপুর চিত্র