সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ৭৬তম বর্ষপূতি উদযাপন

মোঃ হোসন হাসানুল কবিরঃ মুন্সিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহি সরকারি হরগঙ্গা কলেজের আজ ৭৬তম বর্ষপূতি উযাপিত হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ দুপুর ১টার দিকে হরগঙ্গা কলেজ প্রাঙ্গনে কেক কেটা ও আলোচনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ্ প্রফেসার ড. এস, এম, ওয়াহিদু জ্জামান, মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি মতিউল ইসলাম হিরু, সাবেক অধ্যক্ষ প্রবির কুমার গাঙ্গলী, সরকারি হরগঙ্গা কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ্ সহিদুল কবির, সাবেক অধ্যক্ষ সুখেন চন্দ্র বের্নাজী এবং সরকারী হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষক মন্ডলী।

প্রফেসার ড. এস, এম, ওয়াহিদু জ্জামান বলেন, ১৯৩৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখ ব্রিটিশ রাজের অধীনে অবিভক্ত বাংলার (ভারতবর্ষের অন্তর্ভূক্ত) তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন । আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে। কলেজটির প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন শ্রী বিরেন্দ্র মুখার্জী। যিনি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সী কলেজে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের সমসাময়িক ছিলেন।

কতিপয় শিক্ষাবিদ বিশেষ করে স্থানীয় আইনজীবি শ্রী সতীশ চন্দ্র ভট্টাচার্য, তদানীন্তন মুন্সীগঞ্জ মহকুমার উপবিভাগীয় ম্যাজিষ্ট্রেট জনাব এ.এইচ.এম ওয়াজির আলী (শেরে বাংলা ফজলুল হকের ভাগ্নে এবং জামাতা যিনি পরবর্তীকালে পদোন্নতি পেয়ে উপবিভাগীয় বিচারক হয়েছিলেন) প্রমূখ তাঁকে আন্তরিকতার সঙ্গে এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই মহাবিদ্যালয়টি শ্রী আশুতোষ গাঙ্গুলীর এক লক্ষ রুপী অনুদানের ফলে এবং তার মহানুভবতার কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কলেজটির নাম হরগঙ্গা কলেজ রাখা হয় শ্রী আশুতোষ গাঙ্গুলীর পিতা শ্রী হরনাথ গাঙ্গুলী এবং মাতা গঙ্গাশ্বরী দেবীর নামের প্রথম অংশ অনুসারে।

১৯৬২ সালে এই মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং স্বনামধন্য নাট্যকার আযীম উদ্দিন আহমেদ (যিনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র খ্যাত প্রফেসর আব্দুল্লাহ আবু সাঈদের পিতা) কলেজের পুকুরের পশ্চিম পাড়ে একটি মসজিদ এবং পূর্বপাড়ে একটি ব্যায়ামাগার স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে ঐ ব্যয়ামাগারটির কোন অস্তিত্ব নেই। ১৯৬৬ সালে সরকারি অনুদানে কলেজের মূল ফটকের বিপরীতে অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মিত হয় তৎকালীন অধ্যক্ষ জি. এম. এ মান্নান এর তত্ত্বাবধানে। অতঃপর ১৯৮০ সালের ১লা মার্চ কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। ২০০০ সালে অধ্যক্ষ প্রফেসর জীতেন্দ্র লাল বড়ুয়ার সময়ে কলেজ পুকুরের দক্ষিণ প্রাঙ্গনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নামে একটি ত্রিতল একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে ১৯৯৫ সালে পুকুরের পশ্চিম পাড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর নামে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি চারতলা ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীকালে ২০০৭ সালে কলেজ মাঠের পশ্চিম দিকে পুরাতন একতলা বিজ্ঞান ভবনটি ভেঙ্গে সেই স্থানে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে একটি দ্বিতল বিজ্ঞান ভবন এবং কলেজের উত্তর দিকের সীমানায় তাপসী রাবেয়া বসরী নামে একটি ছাত্রী নিবাস নির্মাণ করা হয়। অধ্যক্ষ প্রফেসর আয়েশা শিরিন এর উদ্যোগে ২০০১ সালে কলেজ প্রাঙ্গনে “মাতৃছায়া” নামে তিনটি ছাতা নির্মিত হয়েছিল। যেগুলো কলেজ ক্যাম্পসের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে।

বর্তমানে কলেজটিতে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে দুই হাজার তিনশত জন শিক্ষার্থী, স্নাতক (পাস) শ্রেণিতে ৯৫০ জন শিক্ষর্থী, বিভিন্ন স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ২৬৫০ জন শিক্ষর্থী জন শিক্ষার্থী এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনশত জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এই কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৪০০। ২০০২-২০০৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণিতে কম্পিউটার শিক্ষা বিষয় চালু করা হয়েছে। কলেজটিতে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয় এবং ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে অর্থনীতি, সমাজকর্ম, রসায়ন, প্রাণিবিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়। ১৯৯৯-২০০০ শিক্ষাবর্ষে কলেজটিতে ইংরেজি, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। পরবর্তীকালে ২০০১-২০০২ শিক্ষাবর্ষে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্সে চালু করা হয়। এছাড়া ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন ও গণিত বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু হয়। বর্তমানে কলেজটিতে চৌদ্দটি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং সাতটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন এর সুবিধা রয়েছে।

বিক্রমপুর চিত্র