সুইস ব্যাংকে জব্দ টাকা পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ করতে চাই

আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকে তিন ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাইরে বের হয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। এসবই বানোয়াট।

তিনি বলেন, পত্রিকায় যেসব অভিযোগ লেখা হয়েছে তা কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। পত্রিকার প্রতিবেদনকে মূল উৎস হিসাবে ধরে নেয়ার কোনো সুযোগও নেই, পত্রিকায় তো কত কিছুই লেখা হয় তা কি ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে, প্রশ্ন করে মুসা বিন শসসের। তিনি বলেন, আমরা পত্রিকাকে কোনো দোষারোপও করিছি না।

কেউ আইনে উর্ধে নয়-একথা উল্লেখ করে রহস্য পুরুষ মুসা বিন শমসের বলেন, আমি কোনো টাকা পাচার করিনি। আমি বিদেশে বসে টাকা উপার্জন করেছি। ৫১ হাজার কোটি টাকা পাচারের যে অভিযোগ করা হয়েছে আমার বিরুদ্ধে তার কোনো ভিত্তি নেই। এতো টাকা উপার্জন করা বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ীর পক্ষে অতীতেও সম্ভব হয়নি আগামীতেও সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সুইস ব্যাংক আমার প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার জব্দ করে রেখেছে এবং ঐ টাকা দেশে ফেরত এনে আরিচা পয়েন্টে পদ্মা সেতু করাসহ কয়েকটি অবহেলিত খাতে বিনিয়োগ করার ইচ্ছা আমার রয়েছে ও সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে চাই ঐ টাকা। তিনি বলেন, এসব টাকা আমি বিদেশের মাটিতে বসে আয় করেছি।এটা আমি অফিসিয়ালি দুদককে বলে এসেছি। আমি তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমিই প্রথম বিদেশে লোক পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করি। দেশের উন্নয়নে আমার অবদান আপনারা সবাই কমবেশি জানেন।আজ প্রবাসী শ্রমিকরা যে অর্থ প্রেরণ করছে তা দিয়ে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে শ্রমিক না পাঠালে এ দেশ আজ সোমালিয়ার মতো হতো।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।চলে দুপুর একটা পর্যন্ত।

জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী বিজনেস এশিয়া’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দুদক তার সম্পদ যাছাই ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলার জব্দ অবস্থায় রয়েছে।

মুসার জন্ম ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে। তিনি ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। তবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে এনেছে।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারের জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী।

ঢাকাটাইমস