শহীদ সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমদ

মুক্তিযুদ্ধে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন অকুতোভয় সাংবাদিক নিজামউদ্দিন আহমদ। বিবিসির সংবাদদাতা হিসেবে তার পাঠানো সংবাদ বেতারে শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত সাধারণ মানুষ। তার নির্ভীক সংবাদ পরিবেশন মুক্তিযুদ্ধে প্রাণপণে অবতীর্ণ হওয়ার সাহস সঞ্চার করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পুরান ঢাকার ১২/সি, রোকনপুরের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় হানাদারেরা। এরপর তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের পর তার স্বজনেরা রায়েরবাজার ইটভাটা ও মিরপুর বধ্যভূমিতে বহু খোঁজাখুঁজির পরও তার লাশ পাননি। শহীদ নিজামউদ্দিন আহমদ ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বরে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাজীর পাগলা এ টি ইনস্টিটিউশনে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়নের পর ১৯৪৭ সালে ভাগ্যকূল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও ১৯৫২ সালে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবন থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে রাজনীতি ও সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন।

একজন দক্ষ জনসেবক হিসেবে তিনি ১৯৬৫ সালে শ্রীনগর-লৌহজং আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদে স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হন। প্রাণবন্ত, উচ্ছল ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মহান সাংবাদিক ১৯৫০ সালে করাচির সিভিল অ্যান্ড মিলিটারি গেজেট-এ সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ঢাকার দৈনিক মিল্লাত ও দৈনিক আজাদ পত্রিকার সাথেও জড়িত ছিলেন। তিনি এএফপি, রয়টার, ইউপিআইর সংবাদদাতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এপিপির পূর্ব পাকিস্তান প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পিপিআইর পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ও একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।

১৯৬৪ সালে তিনি এর সম্পাদক এবং পরে মহাব্যবস্থাপক নিযুক্ত হন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি বিবিসির সংবাদদাতা ছিলেন। ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিবিসি কর্তৃপক্ষ তার জীবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে একটি মন্তব্য অনুষ্ঠান প্রচার করেছিল। সরকার ১৯৯৫ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেছে। নিবেদিতপ্রাণ এই সাংবাদিকের আত্মত্যাগ জাতির হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবে।

নয়াদিগন্ত

Comments are closed.