সাবেক এসপি হাবিব এবার ঘর ভাঙলেন জনপ্রতিনিধির

একের পর এক অনিয়ম, দুর্নীতি আর অনৈতিক কর্মকান্ডের পরে এবার ভোলা সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধির ঘর ভাঙলেন মুন্সীগঞ্জের প্রত্যাহারকৃত সেই এসপি হাবিব। ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার থাকাকালীন ওই জনপ্রতিনিধির স্ত্রীর সাথে (দুই সন্তানের মা) তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভোলা শহরের একটি আবাসিক হোটেলে এবং রাজধানী ঢাকার গুলশান নিকেতনের একটি ফ্লাটে প্রায়ই এসপি হাবিব এবং ওই গৃহবধূ একান্তে সময় কাটাতেন বলেও জানা গেছে। সম্প্রতি শতভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘর পালিয়ে আসা দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে নিয়ে এসপি হাবিব বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে এ বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ করেননি ভুক্তভোগী ওই জনপ্রতিনিধি। ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে তিনি এখন চরম দুঃসময় পার করছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালীন এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও পেশাগত অসদাচরণের ২২টি অভিযোগ এনে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে একটি গোপনীয় প্রতিবেদন দাখিল করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। এসব অভিযোগের তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় চলতি বছর এপ্রিল মাসে মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করে এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও উপযুক্ত গুরুদন্ড দেওয়া হবে না এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগনামা পুলিশের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এসময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসপি হাবিবের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, শারীরিক নির্যাতন এবং যৌতুকের অভিযোগ এনে এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে বরগুনার আদালতে গত ২৩ শে সেপ্টেম্বর একটি মামলা (নং ৬৩৯/২০১৪) দায়ের করেন তার দীর্ঘ দিনের স্ত্রী হালিমা আক্তার। এছাড়া, পুলিশ সুপারের প্রভাব খাটিয়ে নিজ গ্রামে রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন এসপি হাবিব ও তার ভাই হানিফ। স্থানীয় বিরোধের জের ধরে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিঃস্ব করেছেন অনেক পরিবারকে। এমন অভিযোগে বরগুনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার। তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী (৬৫) জানান, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে মুন্সীগঞ্জের একটি চারখুনের মামলায় এসপি হাবিবের কু-চক্রান্তে তাকেসহ তার নির্দোষ ছেলেমেয়েদের জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আর এ কারণে সুদুর বরগুনা থেকে এখন মুন্সীগঞ্জের আদালতে গিয়ে তাকে ও তার ছেলেমেয়েদের হত্যা মামলার আসামি হয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় এমন একাধিক মামলায় পঁচাকোড়ালিয়া ও ছোট বগী ইউনিয়নের অনেক নিরীহ পরিবারকে আসামি করা হয়েছে যেসব ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে আপন ভাগ্নিকে পিটিয়ে হত্যা করেন এসপি হাবিবের বড় ভাই হানিফ। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেন এসপি হাবিব। জমি দখল থেকে শুরু করে মামলা-হামলা এমন কোন কাজ নেই যে এসপি হাবিব, তার ভাই হানিফ এবং ভগ্নিপতি লিটন মোল্লা করেননি। সম্প্রতি নিজ গ্রামের একটি হত্যা মামলার আসামি পক্ষের কাছ থেকে মামলা ঘুচিয়ে দেয়ার কথা বলে নগদ ৫ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন এসপি হাবিব ও তার ভাই হানিফ এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় অধিবাসী আইউব আলী ফরাজী (৫৫)। তালতলীর মৌপাড়া গ্রামের আমেরিকা প্রবাসী তোফাজ্জেল হোসেন-এর জমি জবর দখল করে বাড়ি করেছেন এসপি হাবিব। এ নিয়ে অনেকের দ্বারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী তোফাজ্জেল হোসেনের বড় ভাই হারুন অর রশীদ।

তালতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তৌফিকুজ্জামান তনু জানান, এসপি হাবিব, তার ভাই হানিফ এবং ভগ্নিপতি লিটন মোল্লার দমন ও নিপিড়নে এখন অতিষ্ঠ পঁচাকোড়ালিয়া ও ছোটবগী ইউনিয়নের কয়েক হাজার অধিবাসী। মামলা, হামলা, পুলিশী হয়রানি, এমন কি ধর্ষণের শিকার হয়েও অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। দমন নিপিড়নের ভয়ে এসব নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০তম বিসিএসে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন এসপি হাবিব। চাকরিচ্যুতির পর দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে কখনও লঞ্চের সুপারভাইজার, কখনওবা স্থানীয় এনজিও’র মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরপর আদালতের রায় নিয়ে ৫ বছর পর ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন এসপি হাবিব। যোগদানের পর ৪ বছর যেতে না যেতেই রহস্যজনকভাবে এসপি পদে পদোন্নতি পান হাবিব। এরপর থেকে একটিবারের জন্যেও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আর এ ৪ বছরেই একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতির মধ্য দিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন এসপি হাবিব।

বর্তমানে ৩২ লাখ টাকা দামের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে রাজধানী ঢাকায় চলাফেরা করেন এসপি হাবিব। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজ জেলা শহর বরগুনায়, বিভাগীয় শহর বরিশাল সিটিকর্পোরেশন এবং রাজধানী ঢাকার নন্দীপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ কোটি টাকার জমি কিনেছেন। নামে বে-নামে বরগুনা, ঝালকাঠি, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ এবং রাজধানী ঢাকায় হ্জ্ব রিক্রুটিং এজেন্সী থেকে শুরু করে জনশক্তি রপ্তানী, জমি কেনাবেচার ব্যাবসা, রড-সিমেন্টের দোকানসহ সুকৌশলে এমন অসংখ্য ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের বন্ধু, বান্ধব, স্বজন এমনকি অধিনস্থ কর্মচারিদের দিয়ে।

২০১৩ সালে বরগুনা শহরের থানাপাড়ার সিএন্ডবি এলাকায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কিনেছেন এসপি হাবিব। বরগুনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে হোটেল তাজ এন্ড রেস্টুরেন্টের সামনেই এসপি হাবিবের রয়েছে এইচ এস (হাবিব এবং সিপন) ব্রাদার্স নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যা তার দীর্ঘদিনের একজন সহযোগী রাশেদুল হাসান সিপন পরিচালনা করে আসছেন। ইট, বালু এবং রড-সিমেন্ট বিক্রীর এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসপি হাবিবের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ করা আছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ঝালকাঠি, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ এবং রাজধানী ঢাকায় হাবিবের একাধিক ব্যবসায় আরও ত্রিশ কোটি টাকারও বেশী বিনিয়োগ করা আছে বলে এসপি হাবিবের স্ত্রী হালিমা আকতার জানিয়েছেন। সুন্দরবনের অবৈধ কাঠদিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এসপি হাবিব তার নিজ গ্রাম তালতলীর মৌপাড়ায় কাঠের ঘর বানিয়েছেন বলে স্থানীয় অধিবাসীসূত্রে জানা গেছে।

এসপি হাবিবের স্ত্রী হালিমা ও তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একাধিক নারীর সাথে নিজের অনৈতিক সম্পর্ককে নিস্কন্টক রাখতে স্ত্রী হালিমা আক্তারকে ইতোমধ্যেই গোপনে তালাক দিয়েছেন হাবিব।

হালিমা আকতার জানান, বরগুনার তালতলী উপজেলার বর্তমান ছোট বগী ইউনিয়নের মৌপাড়া গ্রামের দরিদ্র ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে হাবিবুর রহমান ১৯৯১ সালে স্থানীয় পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে বরগুনা সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। দারিদ্রের কারণে তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে সেসময় স্ত্রী হালিমা আক্তারের পিতা আইনজীবী সহকারী মো. শামসুল হক মানবিক কারণে হাবিবুর রহমানকে তার বাসায় থাকতে দেন এবং তার পড়াশোনার খরচ বহনে সহযোগিতা করেন। বিনিময়ে এসপি হাবিব শামসুল হকের দুই মেয়েকে জায়গীর মাষ্টার হিসেবে পড়াশোনায় সহযোগিতা করতেন।

১৯৯৩ সালে বরগুনা সরকারী কলেজ থেকে এসপি হাবিব উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এসময় হাবিবুর রহমান শামসুল হকের মেয়ে হালিমা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশানার খরচ এমনকি চাকরি হওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়ে ও মেয়ে জামাইর সুখের জন্যে সকল খরচ বহন করেন স্ত্রী হালিমা আক্তারের পিতা শামসুল হক। শুধু তাই নয়, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেতে সেসময় শ্বশুর শামসুল হককে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দিতে চাপ দিতে থাকেন হাবিব। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর শামসুল হক পৈত্রিক জমি বিক্রী করে সেসময় ৩ লাখ টাকা যৌতুক দেন। ২০তম বিসিএসে সহকারী পুলিশ সুপার পদে এসপি হাবিবের চাকরি হয়। পরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে চাকরির প্রশিক্ষণ শেষ হতে না হতেই এসপি হাবিবসহ ২২জনের চাকরি বাতিল হয়ে যায়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে উচ্চ আদালতে মামলা করে পুনরায় (২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে) চাকরি ফিরে পান এসপি হাবিবসহ অন্যরা।

লঞ্চের সুপারভাইজার থেকে এসপি!

২০ তম বিসিএসে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন এসপি হাবিব। চাকরিচ্যুত অবস্থায় ছিলেন ৫ বছর। এ ৫ বছরে তিনি কখনও লঞ্চে, কখনও স্থানীয় এনজিওর মাঠকর্মী পদে চাকরি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত এসপি হাবিব বরগুনার স্থানীয় একটি এনজিও সিবিডিবির একজন মাঠ কর্মী হিসেবে কাজ করেন মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে। এর আগে ঢাকা বরিশাল রুটের সাগর লঞ্চের সুপারভাইজার হিসেবেও চাকরি করেন তিনি। আদালতের রায় নিয়ে ২০০৭ সালের ১৪ই নভেম্বর পুনরায় পুলিশের চাকরিতে বহাল হওয়ার পর মাত্র ৪ বছরের পুলিশী অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১২ সালে রহস্যজনকভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (এসপি সমমর্যাদা) হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরপর ১ বছর যেতে না যেতেই ২০১৩ সালে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার পদে পোস্টিং পান হাবিব।

মুন্সীগঞ্জের ছিনতাইকৃত কার্গো এসপি হাবিবের গ্রামে!

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্রে জানা গেছে, দ্বীপ জেলা ভোলায় এএসপি থাকাকালীন হাবিবুর রহমানের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে অভ্যন্তরীণ নৌ-ডাকাত দলের সাথে। এসব ডাকাতদলের সাথে রাতের অন্ধকারে প্রায়ই একাকী দেখা করতে যেতেন হাবিব। ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, মুন্সীগঞ্জ এবং চাঁদপুর এলাকার চিহ্নিত নৌ-ডাকাত দলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল এসপি হাবিবের। ওইসব ডাকাতদলের কাছ থেকে হাবিব নিজেই সরাসরি বখরা আদায় করতেন বলে জানা গেছে।

ভোলা জেলা পুলিশের একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল) থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্ট্যান্ড রিলিজ হতে হয়েছিল তাকে।

একটি সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৩ সালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া নদীতে চার শ্রমিককে হত্যার পর ১ হাজার ২শ’ বস্তা সিমেন্ট বোঝাই একটি কার্গো ছিনতাই করে হাবিবের গ্রামের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া গ্রামে নিয়ে যায় নৌ-ডাকাতরা। কথা ছিল এসপি হাবিবের রড-সিমেন্ট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এইচ এন্ড এস ব্রাদার্সের মাধ্যমে বিক্রি হবে সেসব সিমেন্ট। কিন্ত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ দিকে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের পায়রা নদীতে অবস্থান নেয়া ছিনতাইকৃত ওই কার্গোর কথা জানাজানি হলে র‌্যাব এবং স্থানীয় পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে কৌশলে এ ডাকাতির সকল দায় তুলে দেয়া হয় এসপি হাবিবের স্থানীয় প্রতিপক্ষ পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা মো. নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী, তার দুই ছেলে এবং একাধিক নিরীহ স্বজনের উপর। এ ঘটনায় ধরাছোয়ার বাইরে থাকেন মূল পরিকল্পনাকারী এসপি হাবিবের দীর্ঘ দিনের সহযোগী রাশেদুল হাসান সিপন, বড়ভাই হানিফ এবং ভগ্নিপতি লিটণ মোল্লাসহ অন্যরা।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালীন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসন কর্তৃক এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে দাখিলকৃত ২২টি অভিযোগের মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি অভিযোগ ছিল, গজারিয়া উপজেলায় ডাকাতের হাতে একজন পুলিশ কনস্টবল খুন হলেও এসপি হাবিব রহস্যজনক কারণে বিষয়টি ডিসি কিংবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাননি। এমনকি এই পুলিশ সুপার মাসিক অপরাধ চিত্র, চোরাচালান টাক্সফোর্স কর্তৃক পরিচালিত অভিযানের প্রতিবেদন ও আইন শৃংখলা সংক্রান্ত পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন যথাসময়ে ডিসির কাছে পাঠাতেন না। যার ফলে আইনশৃংখলা বিষয়ে জেলার সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পঠাতে বিলম্ব হত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসপি হাবিবের আমলে মুন্সীগঞ্জ জেলায় চুরি ডাকাতি ও মাদকের ব্যবহার অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল। আইন শৃংখলা কমিটির সভায় সেসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং এসব সভায় অধিকাংশ সময়ই এসপি হাবিব অনুপস্থিত থাকতেন বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ এনে ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার অধীনে দক্ষিণ বাংলার গেটওয়ে বলে খ্যাত মাওয়া ঘাট অবস্থিত। এ ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার সাথে সরকারের ভাবমূর্তী জড়িত। এসপি হাবিবের সময় সেখানে পুলিশের দুর্নীতির কারণে মাওয়াঘাট কেন্দ্রিক অবৈধ মাদক ব্যবসা ও যাত্রী হয়রানি বেড়ে যায়।

ওই প্রতিবেদনের শেষ দিকে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজন মনে করেন, এসপি হাবিবের আচরণ, ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব ও দক্ষতা তার পদের সঙ্গে মানানসই নয়।

গানম্যান রুবেল

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালীন সেখানকার জেলা প্রশাসন কর্তৃক এসপি হাবিবের বিরুদ্ধে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে দাখিলকৃত বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে একটি অভিযোগ ছিল, এসপি হাবিবের গানম্যান রুবেলসহ অপর দুই পুলিশ সদস্যদের দ্বারা বখরা আদায়, উৎকোচ গ্রহণসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ সংগ্রহ করতেন হাবিব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার হলেও রহস্যজনকভাবে সেই গানম্যান রুবেল পুলিশ সদর দপ্তরে এসপি হাবিবের গানম্যান হয়েই আছেন। নির্ভরযোগ্য অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এসপি হাবিবের সকল প্রকার অনিয়ম এবং দুর্নীতির অন্যতম সহচর হিসেবে গানম্যান রুবেল এখনও সকল প্রকার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি ভোলা থেকে পালিয়ে আসা গৃহবধূকে দেখভাল করা থেকে শুরু করে এসপি হাবিবের সকল প্রকার আজ্ঞা পালন করে যাচ্ছেন গানম্যান রুবেল।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা

Comments are closed.