একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরযোদ্ধা এখন “ফেরীওয়ালা”

পুরো নাম মোস্তফা দেওয়ান। সবাই ডাকেন মোস্তফা কাকা বলে। ৬৬ বছর বয়সে এখন তিনি একজন ফেরীওয়ালা। ভ্যান গাড়ীতে করে গার্মেন্টের তৈরী রিজেক্ট জামা-কাপড় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ছুটে যান শহরের অলি-গলি। একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরযোদ্ধা মোস্তফা যেন এখন জীবনযুদ্ধের ফেরীওয়ালা।

বর্তমানে তিন চাকার ভ্যান গাড়ীর মতই চলছে তার জীবন-সংসার। মুন্সীগঞ্জ শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার প্রয়াত কালু দেওয়ানের ছেলে মোস্তফা মাত্র ২৩ বছর বয়সে ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে।

পাক-হানাদার বাহিনী ও এদেশের দোসরদের তাড়াতে অস্ত্র হাতে রেখেছিলেন জীবন বাজি। তৎকালীন বিএলএফ বাহিনীর ৩ মহকুমার প্রধান মোহাম্মদ হোসেন বাবুলের সঙ্গে জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঘিয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

পাক-বাহিনীর সদর থানা ক্যাম্প আক্রমন ছাড়াও একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর রাতে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে শহরের সরকারি হরগঙ্গা কলেজের ছাত্রাবাসে পাক-বাহিনীর ক্যাম্পে হানাদারদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মোস্তফা।

প্রান বাঁচাতে ওই রাতেই হরগঙ্গা কলেজ ছাত্রবাস ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক-বাহিনী। এরই মধ্য দিয়ে ১১ ডিসেম্বর ভোরে হানাদার মুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ।

এর মাত্র ৪ দিন পর ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় আসে। দেশ স্বাধীন হয়। তবে দেশের ভেতর রাজাকাররা থেকে যায় ঘাপটি মেরে। আজ সেই রাজাকারের বিচার চলছে। মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা দেওয়ান এখন জীবনযুদ্ধে একজন ফেরীওয়ালা হলেও দেশকে রাজাকার মুক্ত দেখে যেতে চান।

রাজাকারদের ফাঁসি দেখে মরতে পারলে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফার আত্মা শান্তি পাবে। বর্তমানে তিনি ৩ মেয়ে, মেয়ে জামাই, নাতী-নাতনীদের নিয়ে শহরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

বিডিলাইভ

Comments are closed.