এ মাসে আসছে পাইল, জানুয়ারিতে আসন গাঁড়বে মূল ভিত্তি

পদ্মাসেতু
সাব্বির আহমদ: জানুয়ারি মাসেই নদীতলে আসন গাঁড়বে পদ্মাসেতুর মূল ভিত্তি (পাইল)। তারপর মাথা তুলতে থাকবে পিলার। এটাই পদ্মাসেতুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং কাজ। পৃথিবীতে এত গভীর ও খরস্রোতা নদীর মধ্যে এরকম পাইলিংয়ের নজির বিরল।

চীনের নানটোং-এর স্টিল কাটার ফেব্রিকেট ওয়ার্কশপে এসব পাইল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে কিছু পাইল বাংলাদেশে এসে পৌঁছুবে। আর দেশের তৈরি রড দিয়ে চলবে ব্রিজের কাজ।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জমান বাংলানিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আকার, আকৃতি ও দৈর্ঘ্যের হিসেবে পদ্মাসেতু হবে বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সেতু।

বিশ্বের বড় বড় সেতু দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে এই উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী বলেন, পদ্মাসেতুর মত এত বড় একটি নদীর বুকে সেতু তৈরি যে চ্যালেঞ্জ সেই চ্যালেঞ্জের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেতুর কাজ যে গতিতে এগিয়ে চলছে সেটা কেউ থামিয়ে দিতে পারবে না।

সেতুর কাজের দায়িত্বে থাকা চায়না মেজর ব্রিজ প্রকৌশলীদের দেয়া টাইমলাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে পাইলিং শুরু হবে। প্রতিটি পাইলের দৈর্ঘ্য ২৯৫ দশমিক ৩ ফুট (৯০ মিটার)। ২৬৬ পিলার বসবে পদ্মায়।

পদ্মাবহুমুখী সেতু হবে দ্বিতল। দৈর্ঘ্য হবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। সেতুর বেশিরভাগ কাজই হবে স্টিল আর কংক্রিট দিয়ে। পদ্মাসেতু ‌এমন গভীর নদীর সেতু হতে যাচ্ছে যার পানির নিচেই পাইল থাকবে ১২০ ফুট। এর স্থাপত্য কাঠামো এমন যে পানির নিচে ৪০তলা ভবনের সমান ভবন থাকবে এর কাঠামো।পদ্মার দু’দিক থেকে ৬ লেনের সংযোগ সড়ক এসে যুক্ত হবে মূল সেতুতে।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, মূল সেতুর অনেক যন্ত্রপাতি চলে এসেছে, এখনও অনেক কিছু আসার পথে রয়েছে।

তিনি জানান, পদ্মাসেতু প্রকল্পের অ্যাপ্রোচ রোড-১ জাজিরা অংশের ২৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অ্যাপ্রোচ রোড-২ মাওয়া ঘাট অংশের ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সার্ভিস এরিয়া ২—এর ২০ ভাগ শেষ, আর মূল সেতুর কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে।

পদ্মাসেতু বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ।

সেতু বিভাগ সূত্র জ‍ানায়, ২০১৮ সালেই যানবাহন চলাচলের জন্য পদ্মাসেতু চালু হবে। এটি যেমন মেগা প্রজেক্ট তেমনি এই সেতুর দ্রুত অগ্রগতির জন্য প্রতি সপ্তাহেই পদ্মার তীরে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেতু বাস্তবায়নের পর এর সুবিধা পাবেন দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার কোটি মানুষ।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.