আর্সেনিক মুক্ত নলকুপের টাকা মেম্বারের পকেটে

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চুরি করে ধরা খেয়ে এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ইউপি সচিবকে মারধর করেছে। এ নিয়ে সোমবার লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ওই ইউপি সচিব। সচিবের গায়ে হাত দেয়ায় লৌহজং উপজেলা প্রশাসনেও চলছে তোলপাল।

লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ডিষ্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেট এলজিএসপি-২ এর স্কিম প্রকল্প বাস্তবায়ন আর্সেনিক মুক্ত নলকুপ স্থাপনে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। জনসারধারণকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে এ নলকূল স্থাপন করে দেবার কথা থাকলেও হলদিয়া ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার শংকর চন্দ্র ঘোষ প্রতিটি নলকুপ স্থাপন বাবদ জনসাধারণের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

তা ছাড়া উত্তর হলদিয়ার স্বপন ঢালীর বাড়িতে আর্সেনিক মুক্ত নলকুপ স্থাপন দেখিয়ে বিল ভাউচার করে সরকারী খাত থেকে টাকা তুলে নেয় এই শংকর মেম্বার। ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব-নিকাশ অডিট করতে আসলে বিষয়টি ধরা পড়ে অডিটরদের কাছে। পরে ওই টাকা ব্যাংকে ফেরত দিয়ে সেখান হতে নিস্কৃতি পান এই শংকর মেম্বার। এর পর হলদিয়া গ্রামের নূর জাহান মাস্টার ও এমারত আকনের বাড়িতে আর্সেনিক মুক্ত নলকুপ স্থাপন করেন শংকর মেম্বার।

ডিষ্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেট মোবাচ্ছের হোসেন প্রকল্প দুটি পরিদর্শন করতে গেলে স্থানীদের কাছ থেকে জানতে পারেন আর্সেনিকমুক্ত নলকুপ স্থাপনের নামে ২ নং ওয়ার্ড মোম্বার শ্রী শংকর ঘোষ প্রতিটি নলকুপ থেকে ২১ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।

এ নিয়ে ডিষ্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেট স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমানে কাছে অভিযোগ আকারে একটি লিখিত প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদন পেয়ে উপযুক্ত বিষয় জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (লৌহজং), হলিদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার শ্রী শংকর চন্দ্র ঘোষকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে ২টি প্রকল্পের মিস্ত্রির বিল প্রদান ও নলকুপের গোড়া পাঁকা করে প্রাপ্তী স্বীকার পত্রসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ চিঠি রোববার হলদিয়া ইউপি মেম্বার শংকর ঘোষের নিকট পৌছলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন সন্ধ্যা রাতে হলদিযা ইউনিয়র পরিষদ সচিব মোঃ রুহুল আমিন আনোয়াকে মারধর করে। তার হাতে থাকা টচ লাইট দিয়ে সচিবকে আঘাত করে। এ বিষয় লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেছে ইউপি সচিব রুহুল আমিন।

এদিকে এ ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন অভিযোগ থাকলেও সংখ্যা লঘুর ভয় দেখিয়ে সে তার অনিয়মের মাত্রা দিন দিন বাড়িয়ে চলছিল। কেউ কিছু বললে তাকে হুমকি ধমকি দিত আমি সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের লোক, আমার সাথে বাড়াবাড়ি করলে সংখ্যা লঘু অত্যাচারের মামলায় ফাঁসিয়ে দিবো। এ ভয়ে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে কখনও কিছু বলতো না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি আর্সেনিক মুক্ত নলকুপ বসাতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকার বেশী লাগেনা। অথচ এ প্রকল্পে প্রতিটির খরচ দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা করে। যা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ান পার্সেন্ট রাজস্ব খাত হতে খরচ করার কথা। এখানে রাজস্ব খাত হতে খরচ দেখানো হয়েছে।

আবার উল্টো জনগনের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। এছাড়া হলদিয়া বাজারের দক্ষিনপাশে আমানুল্লার বাড়ি হতে মেঘ নালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজে এক লাখ টাকা বরাদ্দ আসলে তিন দিন ৬ জন শ্রমিক খাটিয়ে রাস্তার পুরো টাকায় এই শংকর মেম্বার হজম করে ফেলেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া এরকম টিআর ও কাবিখার অসংখ্য প্রকল্পে নাম মাত্র কাজ করে এ মেম্বার দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ব্যাপারে দুটি আর্সেনিক মুক্ত নলকুপ স্থাপনের কথা স্বীকার করলেও ২১ হাজার টাকা ও রস্তার কাজের টাকার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি শংকর মেম্বার।

বাংলাপোষ্ট