ভালো নেই মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন দুলালের পরিবার

ভালো নেই বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য শান্তিবাগ আওয়ামী লীগ অফিসের ক্লার্ক মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন দুলালের পরিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদানের টাকায় ছেলেমেয়ের পড়ার খরচ চললেও সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মৃত মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন দুলালের স্ত্রী হাছিনা বেগমকে।

জানা যায়, অল্প বয়সে যুদ্ধে গিয়েছিলেন লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল গ্রামের শওকত হোসেন দুলাল। বাবার অভাব-অনটনের সংসারে অনেক কষ্টে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর পরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তিনিও যুদ্ধে যোগ দিতে চলে যান ভারতের আগরতলায়। তাঁকে ভারতে প্রশিক্ষণে যেতে সহায়তা করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে পেটে গুলি লেগে তিনি আহত হন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠেনি তাঁর।

স্বাধীনতার পর বেকার এই মুক্তিযোদ্ধাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগের মালিবাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ক্লার্কের চাকরি দেন। অত্যন্ত অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুব আদরের পাত্রে পরিণত হন দুলাল।

২০০৯ সালের ১৪ মার্চ মুক্তিযোদ্ধা দুলাল মারা যান। দুলালের মৃত্যুর পর তাঁর সংসারে নেমে আসে অভাব। ছেলেমেয়েকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েন তাঁর স্ত্রী হাছিনা বেগম। ঠিক এই সময়ে পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ান তৎকালীন হুইপ ও স্থানীয় এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। হুইপ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি পরিবারটির করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা দুলালের পরিবারকে দুই লাখ টাকা অনুদান দেন।

এ ছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপতিদের সহায়তায় আরো প্রায় আট লাখ টাকাসহ মোট ১০ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয় দুলালের পরিবারের হাতে। প্রধানমন্ত্রীসহ দশজনের টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে একটি আধাপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে এখন সেখানে বসবাস করছে দুলালের পরিবার। তবে ছেলে আর মেয়ের পড়ালেখার খরচেই অনুদানের টাকার লভ্যাংশ শেষ হয়ে যায়।

মুক্তিযোদ্ধা দুলালের স্ত্রী হাছিনা বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, তাঁর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। পাশাপাশি শিল্পপতি আবুল বাসারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন চাকরি করেছেন। মেয়ে শ্রীনগর সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তাঁদের পড়ালেখার টাকা দিয়ে সংসার চালানোর মতো টাকা হাতে থাকে না হাছিনা বেগমের। তাঁর ইচ্ছা ছেলেমেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করবেন। তাই সংসারে আরো একটু সহযোগিতা দরকার।

আর্থিক সহযোগিতা ও তাঁর ছেলেমেয়ের পড়ালেখার পাশাপাশি ভালো কোনো খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়েছেন হাছিনা বেগম।

কালের কন্ঠ

Comments are closed.