পুলিশের আরও দুই প্রকল্পের একই হাল

ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নিজস্ব মাইক্রোওয়েবের মাধ্যমে কম্পিউটার যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল পুলিশ টেলিকম। ২০০৭ সালে নেওয়া সেই প্রকল্প এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের তিন ঠিকাদার ৭০ শতাংশ অর্থ তুলে নিয়ে চলে গেছেন।

এমন উদাহরণ আরও আছে। ‘মডার্নাইজেশন অব পুলিশ কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক’ নামের ২৮ কোটি টাকার আরেক প্রকল্পের সব যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

এই দুটি প্রকল্পের টাকা কী করে পানিতে গেল, তা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চাননি। পুলিশ টেলিকমের একেক কর্মকর্তা একেক ধরনের কথা বলেন। সবারই অভিমত হচ্ছে, যাচাই-বাছাই না করে প্রকল্প হাতে নেওয়ায় এমন দশা হয়েছে।

তবে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের সব কাগজপত্র পর্যালোচনা না করে কোনো কিছু বলতে পারব না।’

রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৭ সালে প্রায় একই সময়ে এই দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। ২০ কোটি টাকার প্রকল্পে অর্থ জুগিয়েছিল জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। পরিকল্পনা ছিল, মাইক্রোওয়েব সংযোগ ব্যবহার করে পুলিশ নিজেদের কম্পিউটার যোগাযোগ স্থাপন করবে। এ জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল মাইক্রোওয়েব বসানো, একটির কাজ কম্পিউটার স্থাপন করা এবং আরেকটির কাজ ছিল মাইক্রোওয়েব ও কম্পিউটারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা (পয়েন্ট টু পয়েন্ট লিংক)। কিন্তু মাইক্রোওয়েব স্থাপনের পর দেখা গেল, কম্পিউটারের বিক্রয়োত্তর সেবার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে সংযোগ আর হয়নি। কম্পিউটারগুলো পুলিশ অন্য কাজে ব্যবহারে করছে।

প্রকল্পে কম্পিউটার সরবরাহ করেছিল আইএসএল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। জানতে চাইলে আইএসএলের প্রতিনিধি এ বি এম আহসানুল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদে পুলিশ টেলিকমের তিন কর্মকর্তা বদল হন। যে কারণে কেউ কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি।

২৮ কোটি টাকার প্রকল্পটি ছিল সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। চার মহানগর বাদে সারা দেশে ডিজিটাল বেতার (টেট্টা রেডিও) যোগাযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল পুলিশের। এ জন্য রাজারবাগ, সাভার, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ছয়টি বেজ স্টেশন স্থাপন করা হয়। কাজটি পেয়েছিল সিঙ্গাপুর টেলিকম (এসটি)। কিন্তু বেজ স্টেশন স্থাপনের পর দেখা গেল, কোনো কাজই হচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ জন্য আরও বেজ স্টেশন স্থাপনের পরামর্শ দেয়। কিন্তু এ নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পটি পড়ে থাকে। এ অবস্থায় ২০১২ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুল টেলিকম চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, তারা আর এ প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি।

এই দুটি প্রকল্প নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশ টেলিকমের উপমহাপরিদর্শক নওসের আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে এসেছি। এত পুরোনো প্রকল্প নিয়ে এখন কিছুই বলতে পারব না।’

প্রথম আলো

Comments are closed.