সিরাজদিখানে সংখ্যালঘুর জাল দলিলে আত্মসাতের অভিযোগ

সিরাজদিখান উপজেলায় তিন সংখ্যালঘু পরিবারের ২ কোটি টাকার জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও প্রতিকার না পেয়ে শয্যাশায়ী হয়েছেন অসহায় বৃদ্ধ বিমল বিশ্বাস। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বেদনা রানী মণ্ডল ও বিমলা রানী সরকার। এ নিয়ে এলাকায় তোড়পাড় চলছে।

বিমলা রানী সরকারের পরিবার জানায়, সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের মৃজাকান্দা গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ বিমলা রানী সরকার অসুস্থতা জনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ বিছানায় পড়ে আছেন দীর্ঘদিন পৈতৃক বাড়ি একই উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের বাসাইল গ্রামে না যাওয়ার সুবাদে চিহ্নিত ভূমিদস্যু মৃত আহম্মদ শেখের ছেলে মো. নিয়ামত শেখ, আতিকুল ইসলাম ও আবদুল মান্নান শেখের নজর পড়ে তিন বৃদ্ধের জমির ওপর।

কৌশলে পরস্পর যোগসাজশে সাজিয়ে আরএস ৫৪নং বাসাইল মৌজার ৩৫ শতাংশ জমি জাল দলিলের মাধ্যমে লিখে নিয়েছে। বৃদ্ধ বিমলা রানী সরকার বলেন, নিয়ামত শেখ, আতিকুর ইসলাম ও আবদুল মান্নান শেখ গং পরস্পর যোগসাজশে ৪৪৩২নং বানোয়াট, অস্তিত্বহীন ভুয়া দলিলের সহিমোহরকৃত নকলের ফটোকপি জমা দিয়ে ৭৮৬/১৪-১৫ নং নামজারি করে জাল দলিল মাধ্যমে আমাকে আমার পৈতৃক একমাত্র ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা আমার কাকা প্রেমানন্দ ও জেঠামশাই নাগর মোহন রায়ের সম্পত্তিও জাল দলিল করেছে। বিমল বিশ্বাস বলেন, আমার মায়ের নাম কুসুম কুমারী বিশ্বাস। আমার দাদু নাগড়মোহন বিশ্বাসের এক মাত্র মেয়ে আমার মা। আমার দাদু নাগর মোহন বিশ্বাস কোনো জায়গা বিক্রি করেননি।

আমার দাদুর বাড়িরর ৬০ শতক ও পুকুরের ৫০ শতক জায়গা আছে যার প্রকৃত মালিক আমার মা কুসুম কুমারী বিশ্বাস ওয়ারিশ সূত্রে মালিক আমরা। টোল বাসাইল গ্রামের নাগর মোহনকে সবাই চিনে তাই তারা সিরাজদিখানে জমি রেজিস্ট্রি না করে শ্রীনগর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ১০৪২ নং দলিল ও নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ১৮০৮নং দলিল রেজিস্ট্রি করেন। আরেক বৃদ্ধ বেদনা রানী মণ্ডল বলেন, জাল দলিল করে ভূমিদস্যুরা আমার পৈতৃক বাড়ির ৫০ শতক জায়গা নিয়ে যাইব দেশে কি আইন বলে কিছু নেই। হিন্দু আইনে পোলা না থাকলে মাইয়ারাই সব সম্পত্তি পাইব।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরমহল আশরাফী বলেন, দলিল সার্স দিয়ে দেখতে হবে প্রকৃত মালিক কে তারপর জাল দলিল কিনা বোঝা যাবে। এ ব্যাপারে নিয়ামত শেখের ছেলে আবদুল মান্নান শেখের সঙ্গে মোবাইলে কথা বললে তিনি জানান, এই জায়গা অনেক আগে মৃত আনন্দ মোহন রায় ও নাগর মোহন রায় আমাদের কাছে বিক্রি করে গেছেন। আমাদের কাছে দলিল আছে।

যুগান্তর

Comments are closed.