সিরাজদিখানে আজ শুরু হচ্ছে লালনসাঁই বটতলায় দু’দিনব্যাপী সাধুসঙ্গ

ইমতিয়াজ বাবুল: ফকির লালন সাঁইজীর জীবন কর্ম ও মানবপ্রেমের মর্মীয় বানীর পরিবেশন ছাড়াও বাংলার লালন ফোক সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে গত ১০ বছরের মতো এবারো ০৫ ও ০৬ ডিসেম্ব শুক্র ও শনিবার দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে সাধুসঙ্গ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার দোসরপাড়া গ্রামের টেকেরহাটে পদ্মহেম ধামের উদ্যোগে লালন শাহ বটতলা সাধুসঙ্গ-১৪২১, অনষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত সাধু সঙ্গে লালন জীবনী, সাধনা বিষয়ক বয়ান ও লালনগীতি পরিবেশন করবেন কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লালন সাধক ও ভক্ত-অনুসারীরা। এবছরও অংশ নিবেন, ভারত ও জাপানের উচ্চ পর্যায়ের সাধক, সাধু গুরু ও খ্যাতনামা বাউল শিল্পিবৃন্দ।

দুইদিন ব্যাপি আয়োজিত এ সাধুসঙ্গে প্রথমদিন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট কলামিষ্ট, গবেষক ও পরিবেশবাদী সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস। দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি থাকবেন বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল হাসান বাদল ও পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার।

পদ্মহেম ধাম লালনসাঁই বটতলার সাধারন সম্পাদক রাসেল মাহমুদ বলেন, ৫ডিসেম্ব শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হবে সাধু গুরু বাউল শিল্পিদের আগমন। বিকেল সাড়ে ৫টায় সাধু গুরুদের আসন গ্রহণ ও অধিবাস। এরপর পর্যায়ক্রমে মধুপূর্ণিমা সাধুসঙ্গের নামকরণ কার্যাবলি ও বিধিবিধান জ্ঞাপন, জ্ঞানরতœকর ফকির লালন সাঁইজির জীবলীলা স্মরণ, গুরুকর্ম যন্ত্রছাড়া সমবেত কণ্ঠে গুরুদৈন্য শেষে চা-মুড়ি সেবা, হালকা নাশতা পর দৈন্যগানের পর রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় লালনগীতির মূল আসর। চলবে ভরা পূর্নিমা পর্যন্ত। পরের দিন ভোর ৬টায় গোষ্ঠগানের মধ্যে দিয়ে গুরুকর্ম, বাল্যসেবার পর দুপুর পর্যন্ত চলবে লালনগীতি, পূর্ণসেবার পর সন্ধ্যায় আবার শুরু হবে দ্বিতীয় রাতের লালনগীতির মূল আসর শেষে ভোর ৬টায় গোষ্ঠগানের আসরের মাধ্যমেই শেষ হবে লালন শাহ্ বটতলা সাধুসঙ্গ – ১৪২১।

পদ্মহেম ধাম লালনসাঁই বটতলার প্রতিষ্ঠাতা কবির হোসেন বলেন, মানবতার বাহক সর্বপ্রাণ লালন সাইজী‘ র আদর্শই আমাদের মূল শক্তি। সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন, লালন সাইজী‘র এই বানীর উপর ভিত্তি করেই আশ্রমটি পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামীতেও সাঁইজির কৃপায় এই সাধুসঙ্গ আব্যাহত থাকবে।

Comments are closed.