জার্মানি হবে দেশের এক নম্বর রপ্তানি বাজার

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ভবিষ্যতে জার্মানি হবে বাংলাদেশের একনম্বর রপ্তানি বাজার। এ মুহূর্তে জার্মানি বাংলাদেশের একক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। জার্মানি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জার্মানি খুশি। আগামী দিনগুলোতে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন এবং বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু তৈরী পোশাক রপ্তানির মধ্যে না থেকে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বে বিভিন্ন উন্নতদেশ থেকে বাংলাদেশের ঔষধ, জাহাজ, আইসিটি এবং চামড়া আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালে রপ্তানি ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে সফররত জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রির শ্রম ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক পার্মানেন্ট স্টেট সেক্রেটারি জর্জ অসমুসিন(ঔড়ৎম অংসঁংংবহ)- এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত দক্ষতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। পোশাক কারখানাগুলোর ফায়ার সেফটি, বিল্ডিং সেফটি, ইলেট্রিক্যাল সেফটি, উন্নত কাজের পরিবেশ, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনসহ সবধরনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। তৈরী পোশাক ক্রেতাদের নিয়োজিত তদন্ত সংস্থা এ্যাকোর্ড ও এ্যালায়েন্স বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২২০০ কাখানা পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ২৭টি কারখানাকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করা হয়েছে। যা শতকরা ২ ভাগের কম, অথচ উন্নত বিশ্বে এ ধরনের ঝুকিপূর্ণের পরিমান শতকরা ২ ভাগের বেশি গ্রহণযোগ্য। এখন তৈরী পোশাকের উৎপাদন মূল্য বেড়ে গেছে, এমতাবস্থায় আমদানি তৈরী পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে বিনিয়োগ সুবিধা সৃস্টির জন্য ৮টি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলা বাউশিয়ায় ৫০০ একর জমির উপর তৈরী পোশাক পল্লী গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে পোশাক কারখানার সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থাকবে। তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আবাসিক সুবিধার জন্য কারখানার পাশে ডরমেটরি নির্মাণের জন্য সরকার নামমাত্র সুদে লোন দিচ্ছে। সবমিলিয়ে সরকার বাংলাদেশেল তৈরী পোশাক শিল্পকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়করাতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ডেসটিনি

Comments are closed.