মুুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়াঘাটে গাড়ি চালকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি

মুুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া ঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তরের ৭দিনের মাথায় শুরু হয়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। দেশের দক্ষিণবঙ্গের ২১জেলার প্রবেশদ্বার এ ঘাটে যাত্রীবাহী ছোট বড় ও পাকিং করা ট্রাকসহ সব ধরনের মালবাহী যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে এ চাঁদা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিমুলিয়াঘাট এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে পরিবহন চালকদের অভিযোগ। চাঁদা না দিলে চালকদের প্রহার করা হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।

ট্রাক চালক হাবিব মিয়া জানান, গোপালগঞ্জ যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ট্রাক নিয়ে (খুলনা মেট্রো ট- ১৪-১৪৬) শিমুলিয়াঘাটে আসার পর এখানকার চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়ি। তারা আমার কাছ থেকে ১৯ হাজার ৩শ’ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী (খুলনা মেট্রো ট ১১-১১৬) এর চালক আবুল হোসেন জানান, ১৪ বছর ধরে এই রুটে ট্রাক চালিয়ে আসছি। কিন্তু মাওয়া ঘাট শিমুলিয়ায় আসার পর স্থানীয় চাঁদাবাজরা বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ৩-৪ হাজার টাকা করে জোরপূর্বক নিয়ে যাচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাদের মারধর করে।

এদিকে, চট্রগ্রাম থেকে আসা যশোরগামী (চট্রো মেট্রো ট ১১-৩৬৮৮)-এর চালক মো. করিমসহ একাধিক চালক জানান, ছোট বড় সকল গাড়ির চালক শিমুলিয়া মোড়ে চাঁদাবাজরা গাড়ি থামিয়ে জোর জুলুম করে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা দিতে অসম্মতি জানালে তারা মারধরসহ জীবননাশের ভয় দেখায়। এতে আমরা তাদের চাঁদা দিতে বাধ্য হই।

এব্যাপারে লৌহজং থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, এটি মাওয়া নৌ-ফাঁড়ি ও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব। কোন অভিযোগ এলে আমরা থানার পুলিশ দেখি।
মাওয়া নৌ-পুলিশের এসআই (টুআইসি) মো. কাইয়ুম জানান, এ ধরনের কোন অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব কিভাবে।

মাওয়া এলাকায় কর্মরত জেলার পুলিশ সার্জেন্ট মো. সাহাদাত হোসেন জানান, আমরা মেইনরোড়ে মাওয়া চৌরাস্তায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করি। ওটা নৌ-পুলিশের দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, ২৭শে নভেম্বর সকাল ১০টায় বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণে মাওয়ায় সেতুর পিলার স্থাপন হওয়ার কারনে মাওয়া চৌরাস্তা থেকে তিন কিলোমিটার পূর্বে শিমুলিয়ায়ঘাট স্থানান্তরের যাত্রা শুরু হয়।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা