জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলিসামাদ হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল: রূপালী পর্দার জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা টেলিসামাদ দ্বিতীয় দফায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। তাঁর বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল কেটে ফেলায় হাঁটতে কষ্ট হয়। তারপরই ক্র্যাচে ভর করে হাঁটার টেষ্টা করেন মাঝে মাঝে। আবার চেয়ারেও বসেন। তবে বেশিরভাগই বিশ্রামে থাকছেন। তবে আবার আজ বৃহস্পতিবার তাঁর হাসপাতালে যেতে হবে চেকাপের জন্য। তবে তাঁর হার্টের অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভাল। ডায়াবেটিকসও অনেকটা কন্ট্রোলে রয়েছে। পায়ে রিং পরানোর কারণে এখন উঠে দাঁড়াতে পারেন না। রূপালী পর্দা কাঁপানো মানুষটির এখন আর ঘরে বসে ভাল লাগে না বাইরে বেরুতে ইচ্ছা করলেও চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে থাকছেন। বিশ্রামে থাকা অবস্থায়ই মঙ্গলবার জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন এই কমেডিয়ান।

এই অসুস্থতার মধ্যেও তাঁর নানা অভিনয়ের কথা মনে পড়ে। ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রের একটি গানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে টেলিসামাদ বলেন, আমার মনা পাখি চলে গেল….গানটি ছিল আমার কণ্ঠে। আমি নিজেই প্লেব্যাক করি। তিনটি চলচ্চিত্রের নায়ক ছিলাম আমি। এর মধ্যে ‘দিলদার আলী’, ‘মনা পাগলা’ ও ‘ডাইনী বুড়ি’। টেলিসামাদ বলেন, অন্তত ৭শ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। এর ৪০টিতে গান করেছি। ভারতের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সময় পরিচালকরা বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার অভিনয় করা প্রায় সব চলচ্চিত্রই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘সুজন সখী’ চলচ্চিত্রটি দুই বাংলায়ই জনপ্রিয়তা পায়। বাংলাদেশের পাশাপাশি কলকাতায় টেলিসামাদ সমান জনপ্রিয়।

কিন্তু বতর্মান চলচ্চিত্রের মান নিয়ে তিনি খুবই হতাশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে প্রযুক্তি অনেক এগিয়েছে। এতে চলচ্চিত্রের মান আরও অনেক উন্নত হওয়ার কথা। কিন্তু সমানভাবে মান খারাপ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন অর্থের লোভে চলচ্চিত্র বানালে কি হবে? থাকতে হবে সৃজনশীলতা। আর তাই হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রের সৃজনশীলায় জাতিকে অনেক এগিয়ে নিতে পারে। আর তখন টাকা এমনিতেই আসে। অসুস্থতার পর টেলিসামাদকে অনেক ভক্তরা খোঁজ নিয়েছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন। তাঁর কার্যালয় থেকে বাসায়ও লোক পাঠিয়ে খোঁজ খবর করেছেন। দেশবাসী তাঁর জন্য দোয়া করেছেন এজন্যও কৃতজ্ঞ তিনি। টেলিসামাদ গত ২০ মে আমেরিকায় যান। টেলিসামাদের যুক্তরাষ্ট্রে তার শরীরে প্রথম বাইপাস করার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেন।

জনকন্ঠ

Comments are closed.