সংস্কারের নামে ঐতিহ্যবাহী শ্যামসিদ্ধি মঠের সর্বনাশ!

মো. আল মামুন: বিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী পূরাকীর্তি শ্যামসিদ্ধির মঠ তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। শ্রীনগর উপজেলার অর্ন্তগত শ্যামসিদ্ধি নামক স্থানে বাংলা ১২৪৩ সনে নির্মিত হয়েছিল এই মঠটি। উপমহাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার মঠ বলে এর সুনাম রয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল মঠটির সংস্কারের কাজ চলছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো মঠের ভেতর এবং বাহিরের অংশে সিরামিক টালি দিয়ে আবৃত করা হচ্ছে। যার ফলে নষ্ট হচ্ছে এর প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট।

বিক্রমপুরের প্রত্নতত্ত্ব প্রেমী স্থপতি আকিল আক্তার চৌধুরী বলেন, এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পূরাকীর্তির এহেন সংস্কার আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। পূরাকীর্তির যে সকল বিষয় নিয়ে আমরা গর্ব করি, কিন্তু তার সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষন করার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের এই মুহুর্তেই নজর দেয়া প্রয়োজন।

মঠটি সোনারং অঞ্চলের অলংকরণে সজ্জিত ছিল। ভেতরের ফ্লোরের নক্সা পরিবর্তন, ভেতরের দেয়াল টালি দ্বারা আবৃত করা, বাহিরের পোডিয়াম বর্ধিতকরণ ও টাইলস দ্বারা আবৃত করা এবং সর্বোপরি বহির পার্শ্বে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সিরামিক টাইলস দিয়ে আবৃত করা হয়েছে। এটা শুধু মঠের সৌন্দর্যকেই ঢেকে দিচ্ছে না ইতিহাসের কিছু নিদর্শনও নষ্ট করে দিচ্ছে। শ্বেত পাথরের নাম ফলকটি খুলে ফেলা হয়েছে, টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে গেছে- হয়তো এ চিহ্নটিও হারিয়ে যাবে সুনজরের অভাবে।

জানা গেল-স্থানীয় লোকজন মঠের সংস্কারের ব্যাপারে খুব একটা অবগত নয়। তবে দায়িত্বে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি না থাকার কারনে তারা নিজেদের উদ্যোগেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অজ্ঞতা বশতই তারা একাজ করছেন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সঠিকভাবে সংস্কার করা হলে সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবেন এবং মঠটি ফিরে পাবে তার অতীত ঐতিহ্য-এমনটাই আশা ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের।

মুন্সীগঞ্জ বার্তা