মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে কুয়াশায় নৌযান চলাচল বন্ধ

বিআইডব্লিউটিসির দিনে চলাচলের পরামর্শ
আবারো ঘন কুয়াশায় মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে সাড়ে ৭ ঘণ্টা ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে উভয় ঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। এদের মধ্যে শিশু ও নারীদের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন।

এদিকে, ঘন কুয়াশার ভোগান্তি এড়াতে দিনের বেলা চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিসি জানায়, গত রোববার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের পদ্মা নদীতে ঘন কুয়াশার প্রকোপ বাড়তে থাকে। কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে সিগন্যাল বাতি, মার্কিং পয়েন্ট অস্পষ্ট হয়ে উঠলে দুর্ঘটনা এড়াতে রাত ৩টার দিক ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় কাওড়াকান্দি ঘাটে ৩টি ফেরি, মাঝ পদ্মায় ৬টি ফেরিসহ এ রুটের সব ফেরি যানবাহনবোঝাই করে নোঙর করে রাখা হয়। সকাল থেকে এ রুটের স্পিডবোট, লঞ্চ চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে লঞ্চগুলো যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়ে গেলে মাঝ নদীতে গিয়ে নোঙর করে রাখে। তীব্র শীতে কয়েক হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার প্রকোপ কমলে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। এর আগে শনিবারও এ রুটে একই কারণে ৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। পরপর দুদিন ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় ঘাটে ৫০০ যানবাহন আটকে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।

আটকে পড়া যাত্রী সুমাইয়া বলেন, মূল সমস্যা বাথরুম সংকট। আর হোটেলগুলোতে দাম রাখে ইচ্ছামতো। রাতে পুলিশও কম থাকে। তাই ভয় লাগে।

ট্রাকচালক মো. আবুল জমাদ্দার বলেন, কুয়াশা কাটলেও আমাদের সংকট কাটে না। কারণ আগে যাত্রীবাহী যানবাহন পার হয়।

রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মাস্টার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঘন কুয়াশা এতটা প্রকট যে সিগন্যাল বাতি, মার্কিং দেখা যায় না। চ্যানেলও সরু। তাই ফেরি বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি কাওড়াকান্দি ঘাট ম্যানেজার আ. বাতেন বলেন, ঘন কুয়াশা আরো কিছুদিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যাত্রীদের দিনের বেলা চলা উচিত। কারণ দিনের বেলা রোদের তাপে কুয়াশা কম থাকে।

ভোরের কাগজ