শ্রীনগরে ষ্টুডিওতে আটকে রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

শ্রীনগরে এক স্কুলছাত্রীকে ষ্টুডিওতে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক। এ ঘটনায় ধর্ষক রাজিব ওরফে রাজু (২৫) ও তার সহযোগী শাহাবুদ্দিনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে উপজেলার বাঘড়া এলাকার কাঠাল বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, কাজী ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী রবিবার বেলা এগারটার দিকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র লেমিনেটিং করার জন্য আলামিন বাজারের রাজু ষ্টুডিওতে যায়। সেখানে ষ্টুডিওর মালিক রাজু ও তার দুই সহযোগী কৌঁশলে মেয়েটিকে ষ্টুডিওর ছবি তোলার রুমে নিয়ে যায়। রুমে নিয়ে প্রায় দুইঘণ্টা ধরে মেয়েটিকে আটকে রেখে রাজু তাকে ধর্ষণ করে ও মোবাইল ফোনে ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে।

এঘটনায় ঐ স্কুলছাত্রীর নানা আইয়ূব আলী বাদী হয়ে রবিবার রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে তিনজনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার নাতনীকে ছোট রেখে বাবা মারা যায়। এর পর অভাবের সংসারে নাতনীকে তার কাছে রেখে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার জন্য তার মেয়ে নারায়নগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে টাকা পাঠায়।

আজ সোমবার থেকে তার নাতনীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বখাটেদের লোলুপ দৃষ্টির কারনে স্কুলের পরীক্ষা না দিয়ে এখন মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা চলছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আলমগীর কবির জানান, রাতেই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আপর আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জ প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত রাজু কাঠাল বাড়ি এলাকার আলোচিত ফাইভ মার্ডার ঘটনায় নিহত মনোয়ার আলী চেয়ারম্যানের ভাতিজা। তার বাবার নাম আনোয়ার আলী। শাহাবুদ্দিনের বাড়ি জগন্নাথপট্টি গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হক।

মানবজমিন

Comments are closed.