বালু-সিন্ডিকেট : বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ মেঘনা পদ্মা-মেঘনা-শীতলক্ষ্যার তীরজুড়ে চলছে বালুদস্যুদের তাণ্ডব। বছরের পর বছর শত শত একর ফসলি জমি তারা কেটে নিয়ে গেছে। তারা তৈরি করেছে সর্বদলীয় সিন্ডিকেট; রাজনীতি ও প্রশাসনের মগডাল থেকে আসে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা। চর ও নদীতীরের গ্রামবাসী অসহায় প্রতিবাদ জানালেও ফল মেলে না।

বাংলাদেশে নতুন অপশক্তির নাম ‘সিন্ডিকেট’। বাংলার সুলতানি আমলের রাজধানী সোনারগাঁর ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এমন সিন্ডিকেটের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছেন। গত শনিবারের প্রথম আলোয় নদীতীরে তাঁদের মানববন্ধনের সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে বালুদস্যুদের অন্যায় ও তার প্রতিবাদের খবর ছাপা হয়। এ মাসেরই প্রথম সপ্তাহে মুন্সিগঞ্জে বালুদস্যুদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে সাতজন গুলিবিদ্ধ ও অনেকে আহত হন। এ রকম ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। সোনারগাঁর নুনেরটেকের গ্রামবাসী কয়েক বছর ধরে তাঁদের চরটি বাঁচানোর জন্য আন্দোলন ও আইনি লড়াই করে যাচ্ছেন।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী এমনকি জাতিসংঘ থেকেও নুনেরটেক রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট করার জন্য চিঠি এসেছে। কিন্তু সকলই গরল ভেল। বালুদস্যুদের প্রতাপের উৎস যখন সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতারা; তখন কেন তারা জনগণকে পরোয়া করবে? কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আগেই আপন স্বার্থে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে।

নির্মাণ-ব্যবসার স্বার্থে বালুর প্রয়োজন। কিন্তু এর জন্য নীতিমালা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ঘোষিত বালুমহালের বাইরে বালু তোলা বেআইনি। বালুর সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসী তাণ্ডবও আর কত চলবে? নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের বালুদস্যুতা সর্বজনবিদিত। তিনি এখন কলকাতার কারাগারে আটক থাকলেও বালুদস্যুতা বন্ধ হয়নি। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অমার্জনীয়।

যদি আইনের শাসনের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা থাকে, যদি অন্নদাতা কৃষক-জেলেদের প্রতি বিন্দুমাত্র কর্তব্য সরকার বোধ করে, তাহলে বালুদস্যুদের এখনই কাঠগড়ায় তুলতে হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.