মাওয়া ঘাটের টিআইকে সাময়িক বরখাস্ত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া ঘাটে পুলিশের কাছে চাঁদা দাবি, মারধর ও হ্যান্ডকাপ পরিয়ে ফাঁড়িতে নেয়ার ঘটনার ট্রাফিকের একজন পরিবহন পরিদর্শককে (টিআই) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত টিআই শেখ শাহাদাৎ আলীকে ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ-এ সংযুক্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। তিনি সোমবার মাওয়া থেকে ডিসপার্চ লেটার নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

ঢাকার বংশাল থানা পুলিশ কনস্টেবল তরিকুল ইসলাম (ধলা মিয়া) জানান, গত ৯ মে তিনি তার ভাই শফিকুল ইসলাম ও অপর আরও একভাই, স্ত্রী আত্মীয় পরিজনসহ তার বাবা সিদ্দিকুর রহমানের লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে দেশের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া থানায় যাচ্ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে তাদের দুটি মাইক্রোবাস মাওয়া ঘাটের ৩নং রো রো ফেরি ঘাটে পৌঁছে। এ সময় লাশবাহী মাইক্রোটি ফেরিতে উঠতে দিলেও অপর মাইক্রোটির কাছে দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় মাইক্রোটি ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়নি।

এ নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় মাইক্রোর যাত্রী কনস্টেবল তারিকুলসহ তার ভাই শফিকুল ইসলাম ও অন্যান্য যাত্রীর এক পর্যায়ে টিআই শাহাদাতের নির্দেশে কনস্টেবল তরিকুল ও তার ভাই শফিকুলসহ অপর ভাইকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় কাছে থাকা অন্য বাসের যাত্রীরা এ ঘটনা দেখে প্রতিবাদ করলে দুজন যাত্রীকেও মারধর করা হয়। তরিকুল ও শফিকুলসহ অন্যদের নিয়ে যাওয়া হয় মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে। সেখানে কনস্টেবল তরিকুল ঢাকার বংশাল থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য পরিচয় দেয়ার পরেও তাদের আটক রাখা হয়।

পরে বংশাল থানার মাধ্যমে তরিকুলের আত্মীয়-স্বজন পুলিশের ওপর মহলে যোগাযোগ করলে বিকাল ৫টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরে কনস্টেবল তরিকুলের ভাই শফিকুল ইসলাম পুলিশ হেডকোয়ার্টারের সিকিউরিটি সেলে টিআই শেখ শাহাদাৎ আলী ও এটিএসআই সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। ঘটনা তদন্তে দায়িত্ব দেয়া হয় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সিকিউরিটি সেলের ইন্সúেক্টর মাহাবুবুর রহমানকে। তিনি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রতিবেদন দিলে মাওয়া ট্রাফিকের টিআই শেখ শাহাদাৎ আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করে ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ আদেশ ফ্যাক্স যোগে পৌঁছার সত্যতা নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ সুপার বিজয় বিপ্লব তালুকদার। তবে সেলিমের বিষয়ে তার কাছে কোনো আদেশ আসেনি বলে তিনি যুগান্তরকে জানান। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে এটিএসআই সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধেও অনুরূপ আদেশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে কোনো সময় ওই চিঠি মুন্সীগঞ্জ পৌঁছে যাবে।

যুগান্তর

Comments are closed.