জাপানে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

রাহমান মনি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে দলের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ নভেম্বর রোববার টোকিওর কিতা সিটি ওজি হোকু তোপিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাপান শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাপান শাখার সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা এবং উপদেষ্টা কাজী এনামুল হক। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুবদল সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল আলম রিপন।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোল্লা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াত দিয়ে শুরু হওয়া সভায় বক্তব্য রাখেন জুয়েল পাঠান, কাউসার খান, সফি রায়হান, মোস্তাফিজুর রহমান জনি, রবিউল আহমেদ ছাব্বির, হায়দার হোসেন, সাদেকুল হায়দার বাবলু, সাকিল মাহমুদ বাঁধন, নুর খান রনি, দেলোয়ার হোসেন, এটিএম জামাল, মকবুল হোসেন মোল্লা, মো. জসীম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন মিঠু, তৌহিদুল আলম রিপন, মীর রেজাউল করিম রেজা, কাজী এনামুল হক, মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে ঐতিহাসিক এক ঘটনার টার্নিং পয়েন্ট। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক ঘটনাটি যদি সংঘটিত না হতো তাহলে আজকের এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না। বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্য রকমভাবে ইতিহাসে স্থান করে নিত। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী জনতা একাকার হয়ে যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত না করতেন, তাহলে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অত্যন্ত বলিষ্ঠ হাতে দেশের ক্ষমতার ভার নিয়ে তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। যেমনটি ১৯৭১ সালে বীরোচিত এক ঘোষণা দিয়ে দেশের আপামোর জনসাধারণসহ শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকেও মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক কুচক্রীমহলের প্ররোচনায় কিছুসংখ্যক বিপথগামী সৈনিক ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা চিরতরে নিভিয়ে দেয়ার হীন চেষ্টা করে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে যখনি বড় ধরনের ক্রান্তিকাল দেখা দিয়েছে তখনি শহীদ জিয়া কাণ্ডারির মতো হাল ধরেছেন, দেশকে সঠিক পথে চালনায় চালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দেশে আজ ক্রান্তিকাল চলছে। এ মুহূর্তে শহীদ জিয়াকে বড়ই প্রয়োজন। কিন্তু শহীদ জিয়া আমাদের মাঝে আজ নেই। রয়েছে আদর্শ, রয়েছে তার ঔরসজাত উত্তরসূরিসহ সারা বাংলায় কোটি কোটি উত্তরসূরি।

বক্তারা বলেন, অনেকেই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে বলেন, ১৯৭৫-এর সেই দিন জিয়াই নাকি খলনায়ক হয়ে জেলে বসে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ঘটান। এসব নির্বোধদের বলতে হয়, সেই সময় জিয়া ছিলেন গৃহবন্দী, সব ধরনের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। সার্বিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরও যদি এতো বড় ধরনের অভ্যুত্থান ঘটানোয় নেতৃত্ব দিতে পারেন, তবে সে তো খলনায়ক না। মহানায়ক, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নায়ক।

সভায় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অবিচল থেকে দেশে গণতন্ত্র পুনরোদ্ধারে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শপথ নেয়া হয় এবং তা এই জাপান থেকেই।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.