মুন্সীগঞ্জে আলু রোপনের ধুম

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জে এখন আলু রোপনের ধুম পরেছে। সারা বাংলাদেশে বর্তমানে সর্ব বৃহত প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের আলু। জেলার সর্বত্র এখন আলু বীজ বপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে এ জেলার অর্ধলক্ষাধিক চাষী। গেলো ৫ বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার আলু রোপনে ব্যস্ত চাষীরা। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ ভাগ আলু উৎপাদন হয় এই মুন্সীগঞ্জে। এ জেলার কৃষকরা তাদের স্ত্রী-কন্যার গয়না-গাটি বন্ধক রেখে, মহাজনদের থেকে ধার কর্জ করে সকল পুঁজি খাটায় এ আলু চাষে। গত ২ বার আলুতে লাকসান হলেও আগ্রহে ভাটা পড়তে দেখা যাচ্ছে না চাষিদের চোখে মুখে। তাদেরও বিশ্বাস এবার আলুতে ভাল দাম পাওয়া যাবে। তবে সরকারিভাবে আলু কিনে বা আলুতে ভর্তুকি দিলে লোকসানের ঘানি টানতে হতো না বলে আলু চাষীদের। তাদের দাবী সরকার সব ধরনের সারের দাম কমালে উৎপাদন খরচ কম পড়তো।

সর্ববৃহত আলু উৎপাদনের জেলা মুন্সীগঞ্জের ৬টি উপজেলার চর-এলাকাগুলোর বিস্তীর্ন জমি জুড়ে আলু চাষিরা এখন মহাব্যস্ত আলু রোপণে। বসে নেই কৃষানীরাও। বাড়ির উঠানে-ঘরে বসে কৃষানীরা বীজ আলু কাটছে। আর কৃষক-গৃহকর্তারা জমিতে আলু রোপণ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

তবে দেশের একমাত্র বৃহত আলু নির্ভরশীল জেলা মুন্সীগঞ্জে দিনদিন চাষাবাদ যোগ্য জমির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর মুন্সীগঞ্জে ৩৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। কিন্তু এ বছর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ৩৫ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত ২ বছর আগেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হতো। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বসতবাড়ি নির্মাণ হওয়ার কারণে চাষাবাদ জমির পরিমাণ অনেক কমেছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি।

জেলার সার্বিক অর্থনীতি অনেকটাই আলুর উপর নির্ভরশীল হবার কারণে এ জেলায় একটানা কয়েক বছর একাধিকবার আলুর বাম্পার ফলনের পরেও লাভের মুখ দেখেনি কৃষককুল। মধ্যস্বত্বভোগী মজুতদার ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও চলতি বছরে ঘটেছে এর ব্যতিক্রম। বাজারে আলুর ব্যাপক দরপতনে মূলধন হারিয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীসহ এ অঞ্চলের কৃষক। তার পরেও অন্য কোন ফসল উৎপাদন করতে না পারায় আলু চাষই করে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস আরো জানায়, জেলার শহরতলির প্রায় ৮০ হাজার পরিবার আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। এখানে কৃষি জমির পরিমাণ ৬৫ হাজার হেক্টর। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৩৬ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে এবার আলু আবাদের লক্ষ্যেমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিয়া আল-মামুন মুন্সীগঞ্জ এ প্রতিবেদককে জানান, আলুর উপর নির্ভরশীল এ জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে জেলায় কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) রয়েছে ৬৭ টি। এগুলোতে আলুর রাখার ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫-৬ লাখ মেট্রিক টন।

গত বছর এ জেলায় সর্বসাকুল্যে ৩৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। আলু উৎপাদন হয় ১২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিকটন। চলতি রবি মৌসুমে কৃষকরা রোপণের জন্য প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু বীজ কোল্ড স্টোরেজে মজুদ রেখেছিল। আর জেলায় বিভিন্ন জাতের আলু আবাদের জন্য প্রয়োজন হয় ৫০ হাজার মেট্রিকটন আলুবীজ।

এ বছর জেলায় বিএডিসি’র আলু বীজের বরাদ্দ চাওয়া হয় ২০ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ২ হাজার ১২৬ মেট্রিকটন। এবার ডিএপি সার চাহিদার চেয়ে বরাদ্দ পাওয়া গেছে বেশি। বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল ১৩ হাজার ১৮২ মেট্রিকটন। বরাদ্দ হয়েছে ১৭ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন।

তারপরও সারের চাহিদা বাড়লে আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে। সার নিয়ে কৃষকদের দু:শ্চিন্তা করার কিছুই দেখি না। কারণ বরাদ্দকৃত সার একবারে নয়, প্রতি মাসেই আনা যাবে।

টাইমটাচনিউজ

Comments are closed.