পুলিশের পিস্তলের গুলিতেই কি পুলিশ আহত!

জনমনে প্রশ্ন
শেখ মো. রতন: পুলিশের সঙ্গে যুবলীগ সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধের পর গ্রেপ্তারকৃত দশ মামলার আসামি সুমন ওরফে কানা সুমন ও তার সহযোগী জুয়েলের অস্ত্র ভান্ডার শনাক্ত এবং তা উদ্ধার না হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ শহর জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

গত বুধবার বিকেলে সদর থানার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী কানা সুমন, জুয়েল ও সুমনের বড় ভাই শাহীনকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত কোন অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে শহরের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে।

জনমনে এখন প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি পুলিশের পিস্তলের গুলিতেই কি পুলিশ সদস্য জিয়াউর রহমান আহত হয়েছেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত আড়াইটার দিকে শহরের মানিকপুর সড়ক থেকে নাইন এমএম পিস্তলের ৪ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র, অপহরণ, মাদক, চুরিসহ ১০ মামলার আসামি মুন্সীগঞ্জ থানার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগ কর্মী মো. শাহজালাল মিজি (২৭)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত ১৯ শে অক্টোবর অস্ত্র মামলায় ৩দিন, পরদিন অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আরও ৪দিনের রিমান্ডে আনা হয়। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন অস্ত্রই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এরপর গত ৯ ই নভেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের মধ্য কোর্টগাঁও এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলিসহ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মামলার একাধিক আসামি অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দীপু দেওয়ান (২৫)-কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২দিনের রিমান্ডে আনা হয়।

কিন্তু এসব ঘটনায় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারতো দূরের কথা রিমান্ডের নামে পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে।

এদিকে, পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ সন্ত্রাসী কানা সুমন, তার ভাই শাহীন ও জুয়েলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে বুধবার রাতে ৩টি মামলা নথিভুক্ত হয় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায়। পুলিশ এ্যাসল্ট মামলায় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের ফকির, মাদক ও অস্ত্র মামলায় এসআই শাহিদুল ইসলাম বাদী হন। এরমধ্যে কানা সুমনকে ৩টি, জুয়েলকে ২টি ও শাহীনকে ২টি মামলায় আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এরমধ্যে কানা সুমনকে ৭দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতে বিলম্বে পাঠানোর কারণে তার রিমান্ড শুনানি হয়নি। আজ রোববার এ রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত কানা সুমনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় আগের ৩টি মাদক, ১টি অস্ত্র, ১টি হত্যা, ১টি অপহরণ, ও ১টি দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ ৭টি ও বুধবার রাতে ৩টি মিলিয়ে মোট ১০টি মামলা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে শহরের গণকপাড়াস্থ মিলন ক্লাবের সামনে সদর থানা পুলিশের তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী কানা সুমনকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় সন্ত্রাসী কানা সুমন ও তার বাহিনী পুলিশের উপর গুলি চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

এতে পুলিশ কনস্টেবল জিয়াউর রহমান জিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার সময় পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এতে গনকপাড়া এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পর্যায়ক্রমে কানা সুমন, তার ভাই শাহীন ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে।

তবে, সদর থানার ওসি আবুল খায়ের ফকির ৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোঁড়ার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় সন্ত্রাসী কানা সুমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বন্দুকের ৯ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। কিন্তু পুলিশের উপর যে গুলি চালানো হয়েছে সে অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ সম্পুর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। চিরুনি অভিযান চালিয়েও আজ অব্দি পুলিশ সদস্যকে গুলি করার অস্ত্র উদ্ধার করতে সম্পুর্ন রুপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনমনে এখনো প্রশ্ন তাহলে কি গুলিতে আহত পুলিশ সদস্য খোদ পুলিশের পিস্তলের গুলিতেই আহত হয়েছে।

টাইমটাচনিউজ