সালিসকারীদের আসামি করা হয়নি!

লৌহজংয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম নাগেরহাটে সুমি আক্তার নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় করা মামলায় গতকাল শনিবার পর্যন্ত অবৈধ সালিসকারীদের আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মামলায় উল্লেখ করা একমাত্র আসামি মান্নানকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার নিহত গৃহবধূর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিকেলে স্থানীয় কনকসার ইউনিয়নের সাতঘরিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সুমির চাচা ইদ্রিস সরদার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুমির বাবা রিকশাচালক। লেখাপড়া জানে না। মামলার অভিযোগ স্থানীয় একজনকে দিয়ে লেখানো হয়। ওই ব্যক্তি শুধু মান্নানকে আসামি করেছেন। আমরা চাই সালিসকারীদেরও আসামি করা হোক।’ ইদ্রিস অভিযোগ করেন, সালিসকারীদের আসামি করতে পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না।

স্থানীয় কনকসার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মেয়েটিকে আত্মহত্যায় যারা বাধ্য করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। দরিদ্র পরিবারটি আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মামলার আসামি মান্নান ঘটনার পর থেকে পলাতক। ঘটনার তদন্ত চলছে। মাতবরদের সংশ্লিষ্টতা পেলে আসামি করা হবে।

সুমির স্বজনদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় তিনজন ইউপি সদস্যসহ সালিসকারীরা সিদ্ধান্ত দেন গৃহবধূ সুমি স্থানীয় মান্নানের ঘর করতে পারবে, কিন্তু সন্তান নিতে পারবে না। সুমি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আত্মহত্যা করেন। মান্নানের সঙ্গে সুমির একবার বিয়ে হলেও তাঁর আগের স্ত্রীর চাপে কৌশলে তালাকনামায় সুমির স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। সম্প্রতি সুমির আরেক জায়গায় বিয়ে ঠিক হলে বাধা দেওয়া শুরু করেন মান্নান। এ বিষয়টি নিয়েই সালিস বসেছিল।

প্রথম আলো