লৌহজংয়ে সালিশিতে অপবাদ : সালিশদারদের উপস্থিতিতে আত্মহত্যা

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে সালিশি বৈঠকে গৃহবধূকে চাপ প্রয়োগ গালমন্দ আর অপবাদ দেয়ায় এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘর সংসার করতে হলে দাসী হিসেবে থাকা এবং কোন সন্তানের জন্ম দেয়া যাবে না বন্ধ্যা হয়ে থাকতে হবে সত্বে জোরপূর্বক সাদা কাগজে টিপসই রাখায় সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সালিশদের সামনেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে সুমি আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূ।

এ অভিযোগ নিহত সুমির পরিবারের লোকজনের। বৃহস্পতিবার বিকেলে লৌহজং উপজেলার কনকসার ইউনিয়নের পশ্চিম নাগেরহাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মরদেহ আনা হয়েছে। এদিকে, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে নিহত সুমির বাবা খোরশেদ সরদার বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে মান্নান (৩৫)-কে আসামি করে মামলা করেছেন বলে লৌহজং থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন। সিমুর চাচা ইদ্রিস সরদার জানান, তার ভাতিজী সুমির প্রথমে একটি বিয়ে হয় হানিফের সাথে ঢাকার নয়াবাজারে।

বিয়ের একদিনের মাথায় সে স্বামীর সাথে সুমির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় প্রায় দুই বছর হয়। এর কিছুদিন পরই একই এলাকার প্রয়াত মজিদ খাঁনের ছেলে মান্নানের সাথে সুমির মন দেয়া নেয়া হলে সুমিকে নিয়ে সকলের অজান্তে নানীর বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ঢাকায় পাড়ি জমায় সুমি আর মান্নান। কিন্তু সেই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি সুমির ভাগ্যে। কারণ মান্নানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী আর আত্মীয় স্বজনরা সুমিকে তালাক দেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করে আসছিল মান্নানকে।

বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে দুই বছর সংসার করার পর গত ২-৩ মাস ধরে এলাকায় চলে আসে দু’জনেই। মান্নানের প্রথম স্ত্রীর আত্মীয় স্বজন ও তার ভাইদের সাথে মান্নান পরামর্শ করে ভুলভাল বুঝিয়ে এনজিও থেকে টাকা তোলার কথা বলে কাবিননামা ও আইডি কার্ড লাগবে এবং এসবে সই করতে হবে বলে সুমির কাছ থেকে তালাকনামায় সই নেয় মান্নান।

এর পর থেকে মান্নান প্রচার চালায় সুমির সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। এরপরই টনক নড়ে হত দরিদ্র ভ্যান চালক সুমির পিতা খোরশেদ সরদারের। সে তার মেয়ে সুমিকে তার বড় মেয়ের বাড়িতে নওপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে গিয়েও মান্নান সুমিকে পুনরায় বিয়ের করার প্রলোভন দেখায়। মোবাইল ফোনে বিরক্ত করতে থাকে সুমিকে। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মান্নানের বাড়িতে সুমি আর মান্নানকে সালিশ নিয়ে বসে এলাকায় মাদবররা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেম্বার নাদের, মহিলা মেম্বার রবেদা বেগম, মেম্বার তপন শরীফসহ আরো স্থানীয় বেশকজন।সালিশে সুমির বিরুদ্ধে রায় এলে অপমান সহ্য করতে না পেরে তাৎক্ষণিক ঘরে ঢুকে আড়ার সাথে উড়না জড়িয়ে সুমী আত্মহত্যা করে।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হযরত আলী জানান, আত্মহত্যার ঘটনাটি আমরা জেনেছি এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ঘটনার পর থেকে আসামি মান্নান পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা চলছে। সালিশ বৈঠকে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তার জানা নেই বলে তিনি জানান। তবে, স্বামীর চাপাচাপির কারনে গৃহবধূ সুমি আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সবুজবাংলা

Comments are closed.